কাজ করতে গিয়ে দুই চোখ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মমিন মিয়া। এ অবস্থায় তার পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে। বন্ধের পথে ছেলেমেয়ের পড়ালেখা। চিকিৎসক বলেছেন ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু এর জন্য চাই অনেক টাকা। তাই দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন দৃষ্টিহীন মমিন মিয়া।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের খামার কঞ্চিপাড়া গ্রামের সমিতির বাজার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মমিন মিয়া। এক সময়ের ব্যবসায়ী মমিন মিয়া হঠাৎ দেনাদার হয়ে ছাড়েন ভিটেমাটি। ঋণ পরিশোধ আর সুখের আশায় পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। কাজ শুরু করেন কমিউনিটি সেন্টারের বাবুর্চির সহকারী হিসেবে। পনের হাজার টাকা বেতনে কেটে যাচ্ছিল দিন। ওই সেন্টারে চাটনি তৈরির সময় হঠাৎ কড়াইয়ের গরম তেল পড়ে চোখে-মুখে। ভর্তি হন হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারও করা হয়। কিন্তু চোখে আলো ফেরানো যায়নি। এর আগে ঢাকার ওয়ারী পার্টি সেন্টারে কাজ করার সময় আগুনে তার দুই হাত, পা ও গলা পুড়ে ঝলসে যায়। সময়ের ব্যবধানে ভালো হয় সেই পোড়া ক্ষত। তবে অর্থাভাবে তার দুই চোখের আলো এখনও ফেরানো যায়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার এ অবস্থার কারণে ১৩ বছরের মেয়ে মীম আকতার, দুই ছেলে ১০ বছর বয়সী আসিফ মিয়া ও আট বছরের শাকিল মিয়ার পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছেন না।

দু'দফা অপারেশনের পরও চোখ ভালো না হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেশী দেশ ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দৃষ্টিহীন মমিন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম। তিনি জানান, 'ডাক্তাররা তার স্বামীকে ভারতে চিকিৎসা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে স্বামীকে ভারতে নিতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটা অন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে হিমশিম অবস্থা তার। মমিন মিয়া বলেন, একেক করে দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেল। কীভাবে বেঁচে থাকব জানি না।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমি পৃথিবীটা দেখতে চাই।

মন্তব্য করুন