আর ক'দিন বাদেই টকটকে লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠার কথা ঈশ্বরদীর লিচু বাগানগুলো। কিন্তু লিচুচাষিদের চোখে যখন কোটি টাকার রঙিন স্বপ্ন, ঠিক তখনই প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করে সে স্বপ্নের সমাধি রচনা করতে চলেছে। ঈশ্বরদীর গ্রামে গ্রামে হাজারো লিচুগাছ ঘিরে আনন্দের বদলে এখন লিচুচাষিদের মাঝে যেন শোকের মাতম বইছে। তীব্র দাপদাহে পরিপকস্ফ হয়ে ওঠার আগেই ফেটে ঝরে পড়ছে লিচু।

কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার লিচুর উৎপাদন হয় শুধু ঈশ্বরদীতে। কিন্তু এবার প্রথম দফায় গাছে মুকুল কম আসা, দ্বিতীয় দফায় কালবৈশাখীতে ক্ষতির পর এখন তীব্র তাপদাহে লিচু ঝরে পড়ার এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কৃষকের জন্য কঠিন।

ঈশ্বরদীর লিচু আবাদ এলাকা সাহাপুর, জয়নগর, মানিকনগর, মিরকামারিসহ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আধপাকা বোম্বাই লিচু তীব্র দাপদাহে গাছেই ফেটে যাচ্ছে।

মানিকনগর গ্রামের লিচুচাষি আমিরুল উদ্দিন সরদার জানান, তাপদাহে প্রথম দফায় গাছ থেকে কাঁচা লিচুর গুটি ঝরে পড়ে গেছে প্রায় ১৫ ভাগ। এর পরপরই কালবৈশাখীতে বেশকিছু লিচুগাছের ডালপালা ভেঙে ও গাছ উপড়ে দ্বিতীয় দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিচুর ফলন। এখন পরিপকস্ফ হয়ে ওঠার মোক্ষম সময়ে একটু লালচে রূপ ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু। ফলে লিচু নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, তা আর পূরণ হওয়া সম্ভব নয়।

কৃষকরা জানান, আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আরও সপ্তাহখানেক চললে এবার লিচু চাষে বিপর্যয় ঘটবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫-২০ দিন ধরে প্রতিদিন সকাল ১১টা বাজতে না বাজতেই ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি অতিক্রম করে, দুপুর নাগাদ ৩৬ থেকে ৩৮-৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠা-নামা করে। লিচুর জন্য এই তাপমাত্রা অসহনীয় উল্লেখ করে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ জানান, তাপমাত্রা এ রকম থাকলে এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন বিপর্যয় হতে পারে। এ বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। কিন্তু ফিলন গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে।

মন্তব্য করুন