ফলন বিপর্যয় নিয়ে অনেক শঙ্কার পর অবশেষে ঈশ্বরদীর বিখ্যাত বোম্বাই লিচু অল্প অল্প করে বাগান থেকে মোকামে আসতে শুরু করেছে। উপজেলার সাহাপুর, আওতাপাড়া ও জয়নগর লিচু মোকামে লিচু বিক্রির পরিমাণও বাড়ছে। এতে হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখছেন লিচুচাষিরা।\হগত বছর ৫শ' কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়েছিল ঈশ্বরদীতে। তবে এবার ফলন কম হওয়ায় তা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে মনে করছেন কৃষক ও কৃষি অফিস সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র। গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর ফলন হয়েছে অর্ধেকেরও কম। কৃষকরা বলেন, এ অঞ্চলের বেশিরভাগ লিচুচাষি সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন লিচুর মৌসুমের জন্য। এমন অনেক কৃষক আছেন, যারা শুধু লিচু আবাদের ওপরই নির্ভরশীল। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য কৃষক সারাবছর লিচু গাছের পরিচর্যা করে আশায় থাকেন ভালো লিচু ফলিয়ে লাভবান হওয়ার। কিন্তু এবার লিচুর জন্য বৈরী সময়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে লিচু নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়েন ঈশ্বরদীর লিচু চাষিরা। এমনিতেই এবার অর্ধেকেরও বেশি গাছে লিচু ধরেনি, তার ওপর করোনাকাল। সেই সঙ্গে তীব্র দাবদাহের কারণে লিচু পাকার আগেই ফেটে যায় গাছে। এসব কারণে বোম্বাই লিচুর রাজধানীখ্যাত ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন নিয়ে এবার শঙ্কায় পড়েন তারা। তবুও এই 'কম লিচু' নিয়েই এখন লিচুবাজার বেশ জমজমাট। ভালো দাম পেলে ফলন কম হওয়ার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন লিচুচাষিরা।

গতকাল মঙ্গলবার আওতাপাড়া লিচুহাটে পাইকারি হিসেবে ২৫শ' থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে প্রতি এক হাজার লিচু। বাজারে আঁটির লিচু উঠলেও বোম্বাই লিচু পুরোপুরি বাজারে আসতে এখনও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে জানান লিচু আবাদিরা।

ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামের লিচু চাষি আমিরুল ইসলাম সরদার জানান, দাবদাহে প্রথম দফায় গাছ থেকে কাঁচা লিচুর গুটি ঝরে পড়ে গেছে প্রায় ১৫ ভাগ, এর পরপরই কালবৈশাখীতে বেশ কিছু লিচুগাছের ডালপালা ভেঙে ও গাছ উপড়ে দ্বিতীয় দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিচুর ফলন। তবুও এখনও যেটুকু\হআছে গাছে, তা ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।\হঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হলেও বেশিরভাগ গাছেই লিচু ধরেনি। গত বছরের চেয়ে এবার ফলন প্রায় অর্ধেক হয়েছে।

মন্তব্য করুন