সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগে এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একে অপরকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন অন্য নেতাকর্মীরা। দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে সংঘাত এড়াতে সাদুল্যাপুর শহরে ১৪৪ ধারা আইন জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে। ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে দ্বন্দ্ব বাড়বে বলে ধারণা নেতাকর্মীদের।

দলের বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দেয়। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হন তিনজন। নির্বাচনের পর দলের ছয় নেতাকর্মীকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়। তবে এই সুপারিশ যথাযথ হয়নি বলে দাবি বহিস্কৃতদের। বর্তমানে অনেক নেতাকর্মী একে অপরের সঙ্গে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার মারা যান। তার মৃত্যুর পর সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ পেতে অনেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার। এতে অনেকেই নাখোশ হন। ২০২০ সালের মার্চে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চান ২৮ জন। সে সময়ে দ্বন্দ্ব মেটাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উম্মে কুলসুম স্মৃতি একাধিক বৈঠক করে সবাইকে ভোটের মাঠে নামান। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন উম্মে কুলসুম স্মৃতি। তবে এ ঐক্য বেশিদিন টেকেনি। ফের কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ নেতারা। গত ৩০ মে সকাল ১০টায় একই সময়ে পাশাপাশি স্থানে দলীয় সভা আহ্বান করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লব। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীনেওয়াজ ওই দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সাদুল্যাপুর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করলে অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার সভা স্থগিত করেন। আর নির্ধারিত স্থান থেকে দূরে গিয়ে সভা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লব। সভা শেষে সাহারিয়া খান বিপ্লব সংবাদ সম্মেলন করে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকারকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে। এর পরের দিন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার। তিনি জানান, ৩০ মের সভায় দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই ওই সভার কোনো সিদ্ধান্তই নেতাকর্মীরা মানতে বাধ্য নন। গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লবকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এভাবে পাল্টাপাল্টি সভা, সংবাদ সম্মেলনে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন অন্যান্য নেতাকর্মী। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সংঘাতময় হচ্ছে বলে দাবি করেন অনেকেই। দ্রুত দলের হাইকমান্ড হস্তক্ষেপ না করলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

বিষয় : সাদুল্যাপুর আওয়ামী লীগ

মন্তব্য করুন