পাবনা শহরে বাড়ি ঘরে পানি : বর্ষার শুরুতেই পাবনায় রেকর্ড পরিমাণ ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, গত চার বছরের মধ্যে পাবনায় এমন ভারি বৃষ্টি হয়নি। এ বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বেশকিছু এলাকায় মানুষের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ।

আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৯১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সোমবারও বৃষ্টি হয়েছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হাসান রঞ্জন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে শহরের কালাচাঁদপাড়া, শালগাড়িয়া, আটুয়া চামড়ার আড়ত মোড়, বেলতলা রোড, গোপালপুর, দিলালপুর, শালগাড়িয়া, কুঠিপাড়া, যুগীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও রাস্তা উপচে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে। অনেক এলাকায় ড্রেনের নির্মাণকাজ চলায় মুখ বন্ধ। ফলে পানি নিস্কাশন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শহরের দক্ষিণ আটুয়া এলাকার ইমন হোসেন বলেন, ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারদের ধীরগতি আর গাফিলতির কারণে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ড্রেন দিয়ে পানি বের হবার বদলে ড্রেন থেকেই পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে।

পাবনা পৌর মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় পানি আটকে গেছে। এ অবস্থায় জনগণ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এক দিনে মেটানো সম্ভব না।

ঈশ্বরদীতে ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ :আষাঢ়ের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে ঈশ্বরদীর শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। টানা ৩ দিন মুষলধারায় রেকর্ড বৃষ্টির পর এ তথ্য জানিয়েছেন মাছচাষিরা। গত রোববার পর্যন্ত উপজেলায় দুই দিনে ২২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

উপজেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আনসারুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদীতে ১০০টিরও বেশি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যেসব মাছচাষি এবার লাভের আশা করেছিলেন, আষাঢ়ের শুরুতেই আশা ভঙ্গ হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাকিলা জাহান জানান, উপজেলায় ২ হাজার ৪০০ বেসরকারি এবং ২৩টি সরকারি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যার তালিকা এখনও করা হয়নি।

বিষয় : জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ

মন্তব্য করুন