কুড়িগ্রামের উলিপুরে ২৪ ঘণ্টা পার হলেও হদিস মেলেনি দুস্থদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের ১৫০ বস্তা চালের। সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন, তিনি চাল ফেরত দিয়েছেন। এদিকে গুদাম কর্মকর্তার দাবি, তিনি কোনো চাল পাননি। গত শুক্র ও শনিবার ভিজিএফের এ চাল নিয়ে নানা নাটকীয়তা দেখা গেছে। শনিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চালগুলো কার এবং কোথা থেকে এসেছিল এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায়নি।

জানা গেছে, আসন্ন ইদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ছয় হাজার ৩০০ অসহায় দুস্থ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গত শুক্রবার ওই ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ছয়টি ট্রলিতে ৫০ কেজি ওজনের ৯০০ বস্তা ভালো চাল খাদ্যগুদাম থেকে বের করা হয়। চালগুলোর মধ্যে ১৫০টি বস্তা খাওয়ার অনুপযোগী পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত। বিষয়টি জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন পচা চাল না নিয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানকে অবগত করেন। এ সময় ওই কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে চাল ফেরত দিতে বলেন। তাৎক্ষণিক ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করে ওই ট্রলিতে চালগুলো ফেরত পাঠান। এরপর শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, তিনি চালের বস্তাগুলো গুদামে ফেরত পাঠিয়েছেন। আর গুদাম কর্মকর্তার দাবি, পচা চালগুলো তার নয় এবং তিনি এ রকম কোনো চাল ফেরতও নেননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উলিপুর সরকারি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান মিল-চাতাল ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি চক্র তৈরি করেন। চক্রটি গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে চলতি বছর ধান, গম, চাল সংগ্রহে নানা অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পচা চালগুলোর মালিক এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা বলেও জানা গেছে।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, একটি গাড়ির ১৫০ বস্তা চাল প্লাস্টিকের পুরোনা বস্তা ও সরকারি সিল না থাকায় চালগুলো নেইনি। সঙ্গে সঙ্গে গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ওই গাড়িতে করেই চালগুলো ফেরত দিয়েছি। বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।

মিল-চাতাল মালিক সমিতির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান বুলেট বলেন, চালগুলো সুটারের জন্য আনা হয়েছিল। ভুল করে এসব চাল হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। পরে এসব চাল সুটারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলাউদ্দিন বসুনিয়া বলেন, গুদাম কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন চালগুলো আমাদের নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, চালের হদিস বের করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে কারও সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন