পাবনার ঈশ্বরদীতে বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন পাটচাষিরা। এরই মধ্যে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। এ বছর পাটের ভালো দাম পেয়ে চাষিরা খুশি হলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ জমির পাটই কেটে জাগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না পর্যাপ্ত পানির অভাবে।

কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টি কম হওয়ায় এ অঞ্চলের ডোবা-নালা, খাল-বিলে পানি জমেনি খুব একটা। এ কারণে পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনমতো পানি না পেয়ে জমি থেকে পাট কাটতে পারছেন না কৃষক।

পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল গ্রামের পাটচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাটের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে পাট কেটে জাগ দিতে পারছি না।

মুলাডুলি ইউনিয়নের পাটচাষি আবুল হাশেম বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছি না। বাড়ির পাশে কাদাপানিতে কোনো রকম চুবিয়ে রেখেছি পাট। জানালেন, পাট কেটে ওই জমিতে এখন ধান লাগাতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে পাট কেটে এখানে চুবিয়ে রাখছি। বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি।

পুরাতন ঈশ্বরদীর সাজেদুল ইসলাম বলেন, পাট কেটে সে জমিতে ধান আবাদের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু পাট কাটতে না পেরে পরবর্তী ফসল আবাদের প্রস্তুতিও নিতে পারছি না।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সব এলাকার অবস্থা প্রায় একই ধরনের। কৃষকরা জানান, এ বছর রোগবালাই খুব একটা না থাকায় পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবার পাটের দামও গত বছরের চেয়ে বেশি হওয়ায় পাট চাষে লাভের আশা দেখছেন তারা।

উপজেলার বিমানবন্দর রোডে ঈশ্বরদী ও পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকায় কিছু কিছু জমির পাট এরই মধ্যে কেটে জাগ দিয়ে ঘরে তুলতে পেরেছেন অল্পকিছু কৃষক। তাদেরই একজন এবাদুর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলন ও দাম দুটোই ভালো হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ঈশ্বরদীতে এ বছর ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। প্রতি মণ পাট বর্তমানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, পানিস্বল্পতায় পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। শ্রাবণ মাসে ভারিবর্ষণ হলে খাল-বিলে পানি জমার পর হয়তো কৃষক দু-এক সপ্তাহ পর পাট জাগ দিতে পারবেন।

মন্তব্য করুন