গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ইউনিয়নের কৃষকরা। সীমান্তের ঘেরাটোপে বন্দি তাদের কষ্টে লালনপালন করা গরুগুলো এখন গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা থেকে গরু দেশের মূল ভূখণ্ড পাটগ্রামে আনতে হলে করিডোর পাস বা স্লিপের প্রয়োজন পড়ে। এই স্লিপ পেতে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয় স্থানীয়দের। পাস সংগ্রহে তাদের কেটে যায় মাসের পর মাস।

ভুক্তভোগীরা জানান, দুই-একজন ভাগ্যগুণে করিডোর পাস পেলেও বেশিরভাগ কৃষক ও খামারির কাছে এই করিডোর পাস বা গরুর স্লিপ যেন সোনার হরিণ। স্লিপ সংগ্রহ করতে গরুপ্রতি দশ থেকে ২০ হাজার টাকা গুণতে হয় দহগ্রামবাসীর। স্লিপ না পেলে গরু পানির দরে দহগ্রামেই বিক্রি করতে হয়। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্লিপ বিতরণের এই প্রক্রিয়া চলে। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে ওই সিন্ডিকেট বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে কৃষকের স্লিপ ব্যবহার করে ভারতীয় গরু মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে। বিজিবি এ ব্যাপারে মাঝেমধ্যে তৎপর হলেও থেমে নেই চোরাকারবারিরা।

তিন বিঘা করিডোর হয়ে দেশের মূল ভূখণ্ড পাটগ্রামের প্রতি হাটে ৩০টি করে সপ্তাহে দু'দিন ৬০টি গরু প্রবেশের অনুমতি দেয় বিজিবি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অনুমোদনক্রমে এসব গরু মূল ভূখণ্ডে যায়।

করিডোর দিয়ে এখন সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারলেও ভারত থেকে পাচারের অজুহাতে গরু পারাপারে বিধিনিষেধ বহাল রাখে বিএসএফ। গরু মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে হলে ইউপি চেয়ারম্যানের স্লিপের প্রয়োজন হয়। এই স্লিপ প্রাপ্তিতেই ঘটে ভোগান্তি ও হয়রানি।

দহগ্রাম আদর্শ গুচ্ছগ্রামের আমিরুন জানান, মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে গরু বিক্রির প্রয়োজন পড়ে। মেম্বার ও চেয়ারম্যানের পেছনে মাসের পর মাস ঘুরেও স্লিপ জোগাড় করতে পারেননি। অবশেষে পানির দরে কসাইয়ের কাছে গরু বিক্রি করতে হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের কৃষক জলিল, চাঁন মিয়া, মিজানুর রহমানসহ অনেক কৃষক জানান, অসুখ-বিসুখ, বিয়ে-শাদি ও জরুরি প্রয়োজনে গরু বিক্রি করে থাকেন। এ অবস্থাতেও বিপদে ফেলে পানির দামে কসাই ও মহাজনরা আমাদের কাছ থেকে গরু কেনেন। দহগ্রামে গরু জবাই করে সে মাংস মূল ভূখণ্ডে নিয়ে এসে বেশি দামে বিক্রি করেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এতে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন কৃষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, একটি স্লিপ ১০ থেকে বিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

দহগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল আলম বলেন, খাতা দেখে ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরু শনাক্ত করে করিডোর পার করা হয়। তাই এখানে কোনো দলীয় হাত নেই।

দহগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, প্রতি হাটে মাত্র ৩০টি গরুর স্লিপ পান তিনি, যা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। সংশ্নিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বাররা কৃষকের গরু শনাক্ত করে স্লিপ দেন। স্লিপ বিক্রি ও সিন্ডিকেটের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, এখানে যা কিছু ঘটে তা কৃষকের সামনেই ঘটে।

পাটগ্রাম ইউএনও সাইফুর রহমান বলেন, গরু পাচারে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে এখানে। আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।

মন্তব্য করুন