পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কবরস্থানের উন্নয়ন ফান্ডের পৌনে আট লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কমিটির সাবেক সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি আদালতে মামলা করেছেন।

বেতুয়ান গ্রামের সামাজিক কবরস্থানের ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতি হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন খান। তিনি উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিনের ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তার ভাষ্য, সরকারি খাল দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

মামলার বাদী দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও একই গ্রামের মৃত তোরাব আলীর ছেলে আবুল হাশেম।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিআইবিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা পিআইবিকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মামলা থেকে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিনকে সভাপতি ও আব্দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৭ সালে বেতুয়ান গ্রামের সামাজিক কবরস্থানের ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন হয়। বিগত চার বছরে বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় পৌনে আট লাখ টাকা আয় হয়। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মারা যান। ঠিক তার পরের দিন কমিটির কোষাধ্যক্ষ রেজাউল করিম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরের দুটি চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে তিন লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা তোলেন। কিন্তু মে মাসে গঠিত নতুন কমিটি আগের কমিটির উত্তোলন করা এই টাকা কবরস্থানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলে। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সভাপতি মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৯ জুলাই পাবনার আমলি-৪ আদালতে মামলা করেন। মামলায় আরও চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

বেতুয়ান গ্রামের ইউপি সদস্য সাহেব আলী বলেন, মোসলেম উদ্দিন কবরস্থানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন কিনা আমার জানা নেই।'

কোষাধ্যক্ষ রেজাউল করিমকে মামলায় আসামি করা হয়নি। তিনি বাদীর সঙ্গে আঁতাত করে মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কবরস্থানের মাটি ভরাটের কাজে জরুরি ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন হলে কমিটির সেক্রেটারি ও সভাপতি টাকা উত্তোলনের কিছুদিন আগে চেকে স্বাক্ষর করেন। এরপর ৫ ডিসেম্বর সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মারা গেলে ৬ ডিসেম্বর কোষাধ্যক্ষ রেজাউল করিম ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। সেই টাকা রেজাউল করিম নিজের কাছে রেখে কবরস্থানের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করছেন। তবে কিছু টাকা এখনও রেজাউলের কাছে জমা রয়েছে বলে আগের কমিটির সদস্যদের অভিযোগ। এ অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রামের ৬ একর আয়তনের একটি সরকারি খাল ভরাটের বিরুদ্ধে মোসলেম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রশাসন খালটির ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর থেকেই মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে অন্য দখলদার ও মামলার বাদী আবুল হাশেমের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল।

চেকে স্বাক্ষরের বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আব্দুল কাদের জীবিত থাকা অবস্থায় চেকে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলা হয়। সেই টাকা কমিটির অনুমোদনে খরচ হয়েছে। কিছু টাকা থাকলে তা কোষাধ্যক্ষের কাছে আছে।

মামলার বাদী কবরস্থানের বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি আবুল হাশেম বলেন, সরকারি খাল দখলের সঙ্গে এই মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। কবরস্থানের টাকার সঠিক হিসাব না পাওয়ায় তিনি মামলা করেছেন। কোষাধ্যক্ষকে আসামি না করার বিষয়ে তিনি বলেন, কোষাধ্যক্ষ মামলার বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করেছেন, তাই তাকে মামলার আসামি করা হয়নি।

কমিটির কোষাধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, কমিটির সেক্রেটারি মারা যাওয়ার আগেই দুটি চেকে স্বাক্ষর করে গিয়েছিলেন। তিনি ওই চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা ওঠান। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। রেজুলেশন করে টাকা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। এখন খাল দখলের ঘটনায় বাদী ক্ষোভ থেকে মামলা করেছেন।

মন্তব্য করুন