উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পলাশবাড়ী উপজেলার কালীবাড়ী চামড়ার হাটে চলছে ঈদ-পরবর্তী বেচাকেনা। তবে এবার প্রচুর চামড়া আমদানি হলেও দাম কম হাঁকায় বিপাকে পড়েছেন\হমৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে\হচোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।

শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, রাজধানী ঢাকা থেকে ট্যানারি, আড়তদার, বিভিন্ন চামড়া কোম্পানির প্রতিনিধি ও ছোট-বড় ক্রেতাসহ এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তরা পলাশবাড়ীর এ হাটটিতে প্রতিবছর ঈদের পর চামড়া কিনতে আসেন। সপ্তাহের প্রতি শনি ও বুধবার এখানে হাট বসলেও এবার শুধু বুধবার চামড়া কেনাবেচা হয়েছে। প্রথম হাটে ক্রেতা থাকলেও চামড়ার দাম কম হাঁকায় বিক্রেতারা সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না।

হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দরপতন এবং করোনা পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাটের বেচাকেনা জমে ওঠেনি। এ ছাড়া পরিবহন সংকটের কারণেও ক্রেতারা চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কম।

বিক্রেতারা জানান, সরকার নির্ধারিত গরুর চামড়া প্রতি ফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১৭ টাকা দরে কেনা হচ্ছে না; বরং পিস হিসেবে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। মূলত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ ও শ্রমিকের খরচ মিলে প্রতিটি গরুর চামড়ায় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা খরচ হয়। সেই চামড়া বাজারে ব্যাপারিরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা করে মূল্য হাঁকছেন। এই দামে চামড়া বিক্রি করলে প্রতিটা চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লোকসান গুনতে হবে। আবার চামড়া বাড়িতে ফিরিয়ে নিলেও খরচ আরও বাড়বে। এতে সুযোগ বুঝে কৌশলী ক্রেতারা কম দাম হাঁকছেন। হাটের পর দিন বৃহস্পতিবারও কিছু ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করতে না পেরে যানবাহন সংকটে হাটেই রেখে দেন। তাদের আশা ছিল পরদিন যদি বিক্রি হয়। কিন্তু সে আশায়ও গুড়েবালি।

অন্যদিকে, বছরের পর বছর ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা পড়ে থাকায় স্বস্তিতে নেই পাইকাররাও। তারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় ক্ষতির মুখে তারা। ধার-দেনা করে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

চামড়ার বাজার সম্পর্কে মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং পাইকারদের তেমন কোনো ধারণা না থাকায় এমন পরিস্থিতি বলে মনে করেন চামড়া কিনতে আসা ট্যানারি সংশ্নিষ্টরা। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, চামড়া সংরক্ষণে মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং পাইকারদের আরও বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে ১৮০টি চামড়া নিয়ে হাটে আসা ব্যবসায়ী দবির উদ্দিন জানান, হাটে সরকার নির্ধারিত দরে চামড়া কেনা হচ্ছে না। বরং পিস হিসেবে চামড়া বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

২৫ বছর ধরে চামড়া কেনাবেচায় জড়িত রংপুরের মীরবাগের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামসহ অনেকে জানান, আগে চামড়ার ভালো দাম পাওয়া যেত। ২০১৯ সালের দরপতনের ধারাবাহিকতায় এ বছর চামড়া ৪ থেকে ৫টি গ্রেডে ২০০ থেকে ৫০০ এবং অল্পকিছু চামড়া ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লোকসান হোক কিংবা লাভ টাকার অঙ্ক ছিল যৎসামান্য। ছাগলের প্রতি পিস চামড়া ২ থেকে ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০-৯০টি ছাগলের চামড়া একত্রে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তারা। ছাগল-ভেড়ার চামড়া ক্রয় ও বিক্রয়ে বেশি লোকসান হয়েছে এবার।

ঢাকা থেকে চামড়া কিনতে আসা বেরাইদ ট্যানারির প্রতিনিধি আব্দুল আলিম বলেন, এবার সারাদেশেই চামড়ার দর কম। তাই বেশি দাম হাঁকার সুযোগ নেই।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আফতাব মোল্লা বলেন, এবার যে দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন, তাতে সবারই লোকসান গুনতে হবে।

মন্তব্য করুন