ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন দুই গ্রামের মানুষ। জমি অধিগ্রহণের টাকা হাতে না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ হয়েছেন তারা। খনি কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন আলটিমেটাম। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের টাকা না পেলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।\হক্ষতিগ্রস্তদের সংগঠন 'জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটি'র প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহীম সম্প্রতি এক সমাবেশে সংবাদিকদের এ কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বোরহান আলী, রুহুল আমীন, রেজওয়ানুল হক, আবু মুসা ও মঈন উদ্দীনসহ অনেকে।\হসংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে খনি সংলগ্ন এলাকার ৬০০ একরেরও বেশি জমি দেবে গিয়ে বিশাল জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তঘাট, বসতবাড়ি এখন পানির নিচে। প্রথম দিকে ১৯০ কোটি টাকায় ৬২৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে খনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে অধিগ্রহণ করা জমির পাশে নতুন করে বাঁশপুকুর ও বৈদ্যনাথপুর গ্রামের ১৫ দশমিক ৫৮ একর জমি ও বসতবাড়ি দেবে যাওয়া শুরু হয়েছে। ফাটল ধরেছে বাড়ি ঘরে। পানি উঠছে না টিউবওয়েলে। পুকুরগুলোও পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কে দিন কাটছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন দুই গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের।\হভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় খনি কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালের ১ মার্চ ৪ ধারায় ও ২৩ জুন ৭ ধারায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করা হয়নি, দেওয়া হয়নি ক্ষতিপূরণের অর্থ। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতায় গ্রামের মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যেমন যেতে পারছেন না, তেমনি নতুন জায়গায় বসতিও গড়তে পারছেন না।\হএ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দুই গ্রামের জমি অধিগ্রহণের প্রাক্কলন চূড়ান্ত করেছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের করার কিছু নেই। জমি অধিগ্রহণের কাজ জেলা প্রশাসনের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা প্রসাশক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন দুই গ্রামের মানুষের জমি অধিগ্রহনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের টাকা পরিশোধ করা হবে।

মন্তব্য করুন