নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুরে শিকারিদের ফাঁদ থেকে সাড়ে তিনশতাধিক বক ও কালিম পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবেশকর্মীদের সহায়তায় গতকাল মঙ্গলবার প্রশাসন এ উদ্ধার কাজ চালায়।

গতকাল ভোরে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার দুর্গম শালিখা এলাকায় পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালান রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা। অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬০টি বক, কালিম পাখিসহ শিকারের সরঞ্জাম। পরে চলনবিলের পেট্রোবাংলা পয়েন্ট এলাকায় পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলা, রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি হাসান ইমাম, সাংবাদিক খান মোহাম্মদ শারফুল ইসলাম খোকন, গোল-ই-আফরোজ কলেজের ভিপি সজীব ইসলাম জুয়েল, পরিবেশকর্মী হাসিবুল হাসান শিমুল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জুবায়ের আহমেদ, কুরবান আলী প্রমুখ।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, চলনবিলে পাখি ও প্রকৃতি বাঁচাতে প্রতিদিন ভোরে তার কমিটির সদস্যরা বিলের দুর্গম এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন। শিকারিদের আটক করে প্রশাসনের মাধ্যমে সাজা প্রদান ও মুচলেকা নিচ্ছেন। এ ছাড়া মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে গুরুদাসপুরে তিনশতাধিক বক উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন ইউএনও তমাল হোসেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু করে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলার খুবজীপুর, বিলশা, হরদোমা, দিঘদারিয়া, যোগেন্দ্রনগর, পৌর সদরের বিলসহ প্রায় ১০টি মাঠে পরিবেশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও তমাল হোসেন। অভিযানে পাখি শিকার করার ১৫টি ফাঁদ ধ্বংস এবং ১৫টি শিকারি বক উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইশতাধিক বক বস্তাবন্দি ও শতাধিক বক খাঁচায় বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় পরিবেশকর্মী মেহেদী হাসান তানিম, রাসেল আহমেদ, নাজমুল হাসান, সাদেক হাসান, মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া উপজেলাব্যাপী পাখি শিকার বন্ধ করতে বিভিন্ন প্রচার চালানো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন