আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর কয়েকটি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার পর অশান্ত হয়ে ওঠে নির্বাচনী এলাকা।

আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সামিউল হক লিটনকে গত শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সোমবার যুবলীগ সভাপতির পদ থেকে বহিস্কার করার পর রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে। সোমবার রাতে সামিউল হকের দুটি নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন এবং তিনটি কার্যালয় ভাঙচুরসহ নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

সামিউল হক অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা তার নেতাকর্মীদের প্রচার কাজে বাধা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। সোমবার রাতে তার দুটি নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন ও পাঁচটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

এদিকে ইভিএমে ভোট গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশিদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি তার বাসভবনে পৌরসভা নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, নৌকার প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারাভিযানে বাধা ও অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে।

ইভিএমে ভোট গ্রহণ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, অভিযোগ রয়েছে ইভিএমে একজনকে ভোট দিলে অন্য জায়গায় চলে যায়, এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সচেতনতা সৃষ্টিতে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ইভিএমে ভোটদান প্রসঙ্গে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তোসি উপস্থিত ছিলেন।

নৌকার প্রার্থী মোখলেসুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য নিজেরা অপকর্ম করে তার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে। একটি লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙচুর বা আচরণবিধি ভাঙার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কোনো পক্ষ যেন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস সজাগ রয়েছে।

আগামী ২ নভেম্বর পৌর নির্বাচনে চারজন মেয়র প্রার্থী, ৮৭ কাউন্সিলর ও ২২ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মন্তব্য করুন