ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক- অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় জেলায় ৪৬ চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। তৃতীয় ধাপে ২৭টি ইউনিয়নে ১৩২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় ২০ জন, ধুনট উপজেলায় ১২ ও সদর উপজেলায় ১২ জন জামানত হারাচ্ছেন।

এর মধ্যে জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে যারা জামানত হারাচ্ছেন তারা হলেন- আমরুল ইউনিয়নে দুটি পাতা প্রতীকের আতিকুল ইসলাম (১১ ভোট), চশমা প্রতীকের আসাদুজ্জামান অটল (৪৫ ভোট), অটোরিকশা প্রতীকের আতিকুর রহমান প্রামানিক (৪৩ ভোট)। ইউনিয়নটিতে প্রদত্ত ভোট ১৬ হাজার ১২৫। প্রার্থী ছিলেন ৮ জন।

আড়িয়া ইউনিয়নে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন- আব্দুল ওহাব রজনীগন্ধা প্রতীকে (৪৬ ভোট), আলতাফ হোসেন ঘোড়া প্রতীকে (২২২ ভোট), তসলিম উদ্দিন অটোরিকশা প্রতীকে (৮১৬ ভোট) ও দেলোয়ার হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে (৫৩৫ ভোট)।

আশেকপুর ইউনিয়নে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলিম ৪৩৯ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন। চোপিনগরে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। প্রদত্ত ১৫ হাজার ৩১৯ ভোটের মধ্যে আব্দুল আলিম অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ ভোট, ফিরোজ আহম্মেদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৪৮ ভোট ও মন্তেজার রহমান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪২ ভোট।

গোহাইল ইউনিয়নে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত খোয়াচ্ছেন। কামাল হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫২ ভোট, মশিউর রহমান ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ ভোট ও শামীম হোসেন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৮১ ভোট। খোট্টাপাড়া ইউনিয়নে ৫৮৩ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের শফিকুল ইসলাম।

মামলা ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম ১৬৫ ভোট পেয়ে ও জলিলুর রহমান ৫২ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন। মাঝিড়া ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম ৭৭, শাহাদত হোসেন ৫১ ও সাইদুর রহমান ২৮ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন।

ধুনট উপজেলায় ১৪ জন জামানত হারাচ্ছেন। তাদের মধ্যে নিমগাছী ইউনিয়নে শাহাদত হোসেন ৯০৪ ভোট ও জহুরুল ইসলাম ৩৫৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চিকাশী ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক ৬৪৫ ও মাহবুর রহমান মাসুদ ১০৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চোকিবাড়ী ইউনিয়নে মজনু শেখ ২৯৫ ভোট ও ধুনট সদর ইউনিয়নে শাহানুর আলম টসর ১০১ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন। এলাঙ্গী ইউনিয়নে মাসুদ রানা চশমা প্রতীকে ১৫ ভোট ও আসাদুল শেখ ২৬০ ভোট এবং গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে জিয়াউল আলম ১৮২ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। গোপালনগর ইউনিয়নে ওমর আলী ১৫৮ ভোট পাওয়ায় জামানত খোয়াচ্ছেন। মথুরাপুর ইউনিয়নে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। তাদের মধ্যে- এম এ রাজ্জাক ১২৭ ভোট, খাদেমুল ইসলাম ১৫ ভোট, মাহফুজুর রহমান ৯৮৭ ভোট ও মোহাম্মদ আলী ৭০৯ ভোট পেয়েছেন।

বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনেই জামানত খোয়াচ্ছেন। কাওছার আলী খোকন ৩৮৪ ভোট, এমদাদুল হক ১ হাজার ১৭ ভোট, খায়রুল ইসলাম ৯০ ভোট, জাহাঙ্গীর হোসেন ১৭১ ভোট ও মিজানুর রহমান ৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে সরদার মোহসিন আলী ৪২ ভোট ও এমরান হোসেন ১৫৭ ভোট পাওয়ায় জামানত খোয়াতে হচ্ছে। সাবগ্রাম ইউনিয়নে আব্দুস সাত্তার ৭৯ ভোট পেয়ে এবং শেখেরকোল ইউনিয়নে রাফি বিন আজাদ ৪৬ ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছেন।

জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ্‌ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট না পেলে তারা জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না।

মন্তব্য করুন