সব ঠিকঠাক থাকলেও দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলছে না পার্বতীপুর রমনা লাইনে ট্রেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষ। এই ট্রেনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম উপজেলার সহস্রাধিক মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল না করায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় এ লাইনে ৩টি ট্রেন চলাচল করত। অজানা কারণে অনেক আগেই দুটি ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ পার্বতীপুর ট্রেনটিও করোনাকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ২১ মাস ধরে দারিদ্র্যপীড়িত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে রমনা ট্রেনটি চালু না করায় এখানকার জনগণের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪২২ নম্বর লোকাল রমনা ট্রেনটি পার্বতীপুর-রমনা, ৪১৫ নম্বর রমনা-তিস্তা এবং ৪১৬ তিস্তা-রমনা, ৪২১ রমনা-পার্বতীপুর রুটে নিয়মিত চলাচল করত। এই ট্রেনকে ঘিরে নদীভাঙনকবলিত দারিদ্র্যপীড়িত উলিপুর, চিলমারী, রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলার মানুষজন তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য অন্য জেলায় বিক্রি করত। এছাড়াও স্থানীয় পাইকাররাও বিভিন্ন জেলা থেকে নানান পণ্য আমদানি করত। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রমনা ট্রেনটি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ট্রেনটি চালু করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে রেলনির্ভর সাধারণ যাত্রী, ফেরিওয়ালা, হকারসহ খেটে খাওয়া মানুষজন। এছাড়াও ট্রেন চলাচল না করায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি উলিপুর স্টেশনটিতে নতুন করে প্ল্যাটফর্ম ও সংস্কার করা হলেও ট্রেন না আসায় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, কুড়িগ্রাম থেকে রমনা স্টেশনের দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। এক সময় উলিপুর রেলস্টেশনে ব্যাপক জনসমাগম থাকলেও এখন সুনসান নীরবতা। এই রেলপথে ৪টি স্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন এ এলাকায় ট্রেন না আসায় সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদকসেবীর আড্ডা।

রেলস্টেশনে যাত্রীদের বেঞ্চে বসে থাকা কয়েকজন বলেন, করোনার পর থেকে রমনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ। গত ১২ নভেম্বর রেলমন্ত্রী স্টেশন পরিদর্শন করেন। মনে করেছিলাম এবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে। সে আশায় গুড়েবালি। দ্রুত রমনা ট্রেনটি চালু করলে এ এলাকার মানুষ খুবই উপকৃত হতো বলে জানান তিনি।

স্টেশনের কুলিসর্দার শামসুল আলম বলেন, এ স্টেশনে আমরা চারজন কুলি রয়েছি। ট্রেনকে ঘিরেই চলে আমাদের জীবিকা। করোনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

মুদি দোকানি মালেকা বেগম বলেন, আগে প্রতিদিন ট্রেন আসত। স্টেশনে মানুষ যাতায়াত করত। ফলে বেচা-বিক্রিও ভালো হতো। এখন আর ট্রেন আসে না, বেচা-বিক্রিও নেই।

উলিপুর রেলস্টেশনের অফিস সহায়ক সবুজ মিয়া বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ, কাজও নেই। ট্রেন বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন অফিস খুলতে হয়ে। কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, ২১ মাস থেকে এ অঞ্চলে রমনা ট্রেনটি না আসার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। রমনা রেলস্টেশনের ওপর চিলমারীসহ রৌমারী-রাজীবপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলাও নির্ভরশীল। জেলা সড়ক ও নদীবন্দর-সংলগ্ন হওয়ায় গুরুত্বটা আরও বেড়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে লোকাল ট্রেনটি বন্ধ রাখায় এ এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি পর্যক্ষেণ করা হচ্ছে। দ্রুত রমনা ট্রেনটি চালু করা হবে।

মন্তব্য করুন