বয়স ৪০ বছর। জন্মের পর আর দশজনের মতো সুস্থ, স্বাভাবিক থাকলেও এখন তিনি একজন শারীরিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুকালেই হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি।

তবে এই প্রতিবন্ধিতা তার আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করতে পারেনি। ধ্বংস করতে পারেনি সম্মানজনক জীবিকা অর্জনের তাড়নাকে। তাইতো ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে না নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করেন শীত মৌসুমে সিদ্ধ ডিম আর অন্য সময়ে ভাজা বাদাম। ব্যবসার আয় আর প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়ে টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে তার। আব্দুস সামাদ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ ইউনিয়নের সুড়াইল গ্রামের বাসিন্দা। এলাকার সবাই তাকে ডিম সামাদ নামেই চেনেন।

সামাদ জানান, ১৬ বছর আগে মারা যান তার দিনমজুর বাবা। সংসার চালাতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে সেই থেকে তার মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। বিধি বাম, বাবা মারা যাওয়ার ৮ বছরের মাথায় সামাদের মাও মারা যান। এরপর উপায়ান্তর না দেখে সামাদ নিজেই রাস্তায় বা বাজারে ফেরি করে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করা শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, এই ডিম বিক্রির টাকাতেই খেয়ে না খেয়ে দুই সন্তান নিয়ে কোনোরকম চলে যাচ্ছিল তার দিন। কিন্তু জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী এখন শয্যাশায়ী। মেয়ে দুটিকে কীভাবে মানুষ করবেন, তা নিয়েই সর্বক্ষণ দুশ্চিন্তা।

আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, সামাদকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি সুযোগ এলে তাকে আরও সহযোগিতা করা হবে। সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তবানরা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে এই অসহায় মানুষটি যারপরনাই উপকৃত হবেন।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টুকটুক তালুকদার বলেন, সামাদের বিষয়ে আগে জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সাহায্য করা হবে।

মন্তব্য করুন