এক সময় দেশি ও পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম ছিল দেশের বৃহত্তর বিল চলনবিল। বর্ষার পানি নামতে শুরু করলেই খাদ্যের সন্ধানে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে নামতো এই বিলে। দেশি ও অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠতো বিলাঞ্চল। এখন সেভাবে পাখি না এলেও কিছু কিছু বিলে দেখা মেলে পরিযায়ী পাখির। তার মধ্যে একটি 'চিরইল বিল'। হাজার হাজার পাখি সারাক্ষণ মুখরিত করে রেখেছে এই বিল। পাখি দেখতে প্রতিদিন বিলপাড়ে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

চাটমোহর উপজেলার চিরইল বিলে পাখিদের জলকেলি এখন চোখে পড়ার মতো। অতিথি পাখির সঙ্গে রয়েছে দেশি পাখিও। চারদিকে তাকালেই দেখা যাবে পাখির ওড়াওড়ি। কখনও আবার ধ্যানমগ্ন বসে থাকা। সন্ধ্যার পর বিলপাড়ের গ্রামগুলোর গাছে গাছে পাখির কিচিরমিচির শব্দ যেন এক স্বর্গীয় দ্যোতনা সৃষ্টি করে।

স্কুলশিক্ষক এম এ জিন্নাহ বলেন, প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের অন্যতম স্থান এই চিরইল বিল। সব সৌন্দর্যই পাওয়া যায় এখানে প্রকৃতির মাঝে। এত কাছ থেকে পাখি দেখা সত্যিই আনন্দের। বিলে বক, শালিক, বালিহাঁস, ডাহুকসহ হরেক রকম পাখির সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির মিতালি।

পরিবেশ আন্দোলনের নেতা উত্তরবঙ্গ মৌচাষি সমবায় সমিতির সভাপতি পাখিপ্রেমী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র সুরক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহর উপজেলার চিরইল বিল, ডিকসির বিল, খলিশাগাড়ি বিল, বিলকুড়ালিয়া, জিয়েলগাড়ি, ঝাকড়ার বিলসহ অন্যান্য বিলে এখনও অনেক পাখির দেখা মিলছে, এটা ভালো লক্ষণ। তবে শিকারিদের শ্যেনদৃষ্টিও আছে এই পাখিদের দিকে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম বলেন, চলনবিলে এসেছে অতিথি পাখি। পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা এ বিষয়ে সচেতন আছি। সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য করুন