কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান অস্থিতিশীলতার ইতি টানতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পাকিস্তান। তবে এর কঠোর বিরোধিতা করেছে ভারত। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার এ কথা জানান তারই মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক। খবর ডনের।

গত সপ্তাহের সোমবার 'বিচ্ছিন্নতাবাদী'দের ডাকা ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা কাশ্মীর। আগের দিন রাজ্যের শোপিয়ান ও অনন্তনাগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন সেনা সদস্যসহ নিহত হয়েছেন ২০ জন। রাজ্যটির দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্রোহী এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে তিনটি বন্দুকযুদ্ধ হয়, যেখানে অন্তত ১৩ বিদ্রোহী, তিন ভারতীয় সেনা নিহত হন। দক্ষিণে যখন এই সংঘর্ষ চলছিল, তখন গোটা কাশ্মীর ভারতবিরোধী প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে। শোপিয়ান জেলার কাচডোরা গ্রামে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে পুলিশ। সেখানে নিহত হন চার বেসামরিক কাশ্মীরি। আহত হন অনেকে। রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগরে কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও কাশ্মীরে থমথমে অবস্থা। রাস্তায় রাস্তায় টহল চলছে সেনাবাহিনীর।

গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, 'এ পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছি আমরা। জাতিসংঘ মহাসচিব কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। সাধারণ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে গত সপ্তাহেই উভয় পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।' মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের জাতিসংঘের সৎ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা এই অশান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশ চাইলে জরুরি বৈঠকে বসতে পারে। পাকিস্তান সব সময়ই জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছে। তবে ভারত বরাবরই এর বিরোধিতা করে থাকে।

কয়েক বছরে তরুণ কাশ্মীরিরা ভারতবিরোধী বিদ্রোহীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া শুরু করেছে। এমনকি তারা এই বিদ্রোহীদের রক্ষার অঙ্গীকার করে প্রকাশ্যে সেনাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে। সম্প্রতি কাশ্মীরের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ভারতের সেনাপ্রধান। কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার কাশ্মীরি নিহত হয়েছে।