গুহা থেকে থাই শিশুদের চিঠি

চিন্তা করো না, আমরা ভালো আছি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

গুহা থেকে থাই শিশুদের চিঠি

থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকেপড়া কিশোর ফুটবলারদের ভিডিও ফুটেজ গত চার জুলাই প্রকাশ করে থাই রয়্যাল নেভি। এরপর শনিবার আটকেপড়া শিশুরা চিঠি পাঠিয়েছে তাদের উদ্বিগ্ন মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে-এএফপি

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকেপড়া খুদে ফুটবলাররা চিঠির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। আবেগঘন ওই চিঠিতে তারা বলেছে, চিন্তা করো না, আমরা ভালো আছি। হাতে লেখা ওই চিঠিতে খাবার বিশেষ করে 'ফ্রাইড চিকেন' পাঠানোর অনুরোধও করেছে তারা। গতকাল শনিবার লেখা চিঠিতে ওই শিশুদের একজন মজা করে লিখেছে, 'শিক্ষক, আমাদের অনেক বেশি হোমওয়ার্ক দেবেন না!' এদিকে ঘটনাস্থলে বৃষ্টি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আর তিন-চারদিন উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।

গত ২৩ জুন ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১২ খুদে ফুটবলার ও তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ এক্কাপোল চ্যাংটাওং থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের 'থাম লুয়াং নায় নন' গুহায় প্রবেশ করে বৃষ্টির কারণে আটকা পড়ে। এরপর থেকে কয়েকটি উদ্ধারকারী দল তাদের বের করে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। নৌবাহিনীর ডুবুরি, সেনাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবীসহ প্রায় এক হাজার মানুষ এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। অতিরিক্ত উদ্ধারকারীর উপস্থিতির কারণে ঘটনাস্থলে অক্সিজেনের মাত্রা চাহিদার চেয়ে অনেক কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবে বাঁচার জন্য বাতাসে সর্বনিম্ন অক্সিজেনের উপস্থিতি প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। কিন্তু ঘটনাস্থলে অক্সিজেনের উপস্থিতি ১৭ শতাংশেরও নিচে। গুহার ভেতর রসদ ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে এরই মধ্যে একজন ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাতের কারণেও উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে। শনিবার উদ্ধারকারীদের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া ওই গুহায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রও বেড়ে যাচ্ছে। তাই উদ্ধার কাজে আর ৩-৪ দিন সময় পাবেন তারা।

কোচ এক্কাপোল ওই শিশুদের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখছেন। তিনি চিঠিতে লেখেন, সব বাচ্চাদের প্রিয় বাবা-মা, এখন তারা সবাই ভালো আছে। উদ্ধারকারী দল আমাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করছে এবং আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে শিশুদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। যারা আমাদের সাহায্য করতে এসেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, সেই সঙ্গে আমি বাচ্চাদের বাবা-মায়ের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।

চিঠিগুলো স্থানীয় সরকারের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হলে কয়েকজন অভিভাবক স্পষ্টভাবে জানান, তারা কোচকে দোষারোপ করছেন না। এক অভিভাবক বলেন, মা-বাবারা তোমার প্রতি ক্ষুব্ধ না। আমাদের শিশুদের দেখে রাখার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চিয়াই রাইয়ের গুহাটিতে খুদে ফুটবল দলটি যখন প্রবেশ করে তখন এত পানি ছিল না। তারা গুহার ভেতরে প্রবেশের পর তুমুল বৃষ্টি শুরু হলে পানি বেড়ে গিয়ে গুহার কিছু সংকীর্ণ অংশ পুরোপুরি ডুবে যায়। পানি বাড়তে থাকায় প্রাণ বাঁচাতে গুহার প্রবেশ মুখ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে ছোট একটি পাথুরে তাকের ওপর আশ্রয় নিয়েছে তারা। সেখান থেকে তাদের বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার সেখানে উদ্ধারকারীদের জন্য চুল কাটা ও শরীর ম্যাসাজের জন্য ফ্রি ক্যাম্প খোলা হয়েছে। তাদের জন্য সেখানে খাবারও রান্না করা হচ্ছে।