নওয়াজের দুর্ভাগ্যের শেষ কোথায়

বিশ্নেষণ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় নিতে হলো। দলের প্রধানের পদও খোয়াতে হলো। এরপর অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্ট দিলেন তাকে ১০ বছরের জেল। প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর স্ত্রী ও মেয়ে- যে কোনো একজনকে দলের প্রধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে মরিয়মকেও সাত বছরের জেল দিয়েছেন আদালত। আর স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ গলার ক্যান্সারে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। গত একটি বছর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক এমন বিশাল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেল পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের। তার বিপর্যয়ের কী এখানেই শেষ, নাকি শুরু? বারবার গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেও কোনোবারই মেয়াদ শেষ করতে না পারা এ নেতার দুর্ভাগ্যের শেষ কোথায়? প্রথম ও তৃতীয় দফায় ক্ষমতা ছাড়তে হয় দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা ছাড়তে হয় সামরিক অভ্যুত্থানের শিকার হয়ে, তখনকার জান্তাপ্রধান পারভেজ মোশাররফের হাতে।

গত শুক্রবার নওয়াজ শরিফের ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিলেন সে দেশের আদালত। পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে এই জেলবাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে। লন্ডনের পশ এলাকা অ্যাভেনফিল্ড হাউসে চারটি ফ্ল্যাটের মালিকানা ঘিরে শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার কয়েক সপ্তাহ আগেই এ রায় দিলেন বিশেষ আদালত।

একের পর এক রায় নওয়াজেরই প্রতিকূলে গেছে তা নয়, গেছে তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের ভাবমূর্তির বিরুদ্ধেও। গত শুক্রবারের রায় নওয়াজের জন্য কতটা বিপর্যয় ডেকে এনেছে এবং তা কতটা ঠিক হয়েছে তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ রায়ের ফলে তার দলের রাজনৈতিক বিপর্যয় তাৎক্ষণিকভাবেই অনুভূত হবে তা নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণ শুরুর আগেই।

অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিতই বলা যায়। ৬৮ বছর বয়সী নওয়াজ শরিফ এখন লন্ডনে। তিনি ও তার মেয়ে মরিয়মকে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই জেলে যেতে হয় কি-না এখন তা দেখার অপেক্ষা। তবে নওয়াজ মুখে দেশে ফেরার কথা বললেও বাস্তবে এবং অদূরভবিষ্যতে তিনি ও তার মেয়ে দেশের মাটিতে পা রাখছেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।