ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে মিত্রদেরও হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮

সমকাল ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা নিয়ে নিজের মিত্র দেশগুলোকেও হুমকি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র, না হয় ইরান- এর মধ্যে একটি দেশকে বেছে নিতে বললেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কেউ ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ব্যবসা থাকবে না। এর আগের দিন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পরমাণু চুক্তিতে ফিরে এলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা সম্ভব, এর আগে নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। এ যুদ্ধের লক্ষ্য ইরানের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। খবর বিবিসি ও এএফপির।

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তাব দেয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ছাড়া কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে এ বিষয়টিকে ব্যবহার করে ট্রাম্প রিপাবলিকান দলকে জিতিয়ে দিতে চান।

এর আগে গত সোমবার রাতে ইরানের টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সরাসরি এক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে রুহানি বলেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। গোটা ইউরোপসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই ইস্যুতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টি উপলব্ধি করে ট্রাম্প ইরানের প্রতি আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে ইরানের জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

রুহানি আরও বলেন, ইরানি জাতি গত চার দশকে এই অভিজ্ঞতায় জানে, আঘাত করার প্রতিটি সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে। আঘাত করার এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বন্ধুর বেশ ধারণ করতেও সিদ্ধহস্ত যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যে আলোচনায় বসতে চায় তার জানা উচিত আলোচনার প্রথম শর্ত সততা। কিন্তু আমাদের আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন এমন এক ব্যক্তি যিনি তার দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছেন। তিনি যে আবার আলোচনায় বসে অর্জিত সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবেন না তার নিশ্চয়তা নেই। কাজেই এ ধরনের মানুষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে না তেহরান। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট রুহানি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করব।

আগের দিন ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা পুরোপুরি পুনর্বহাল করা হবে। সে অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার থেকে ইরানের গাড়ি, স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতু খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। ইরানিদের মার্কিন ডলার ক্রয়, কয়লা, শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার খাতেও নিষেধাজ্ঞা বলবত হয়। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরানের চুক্তির পর এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন ট্রাম্পের পূর্বসূরি বারাক ওবামা। আগামী নভেম্বর থেকে ইরানের তেল রফতানিতেও বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান নতুন চুক্তির জন্য রাজি হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনও ইরানকে হুঁশিয়ার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করতে অথবা নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় আরও দুর্ভোগে পড়ার মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে ইরানের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ সময় ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহকে তেহরানের গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বোল্টন আরও বলেন, ইরানের উচিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পরিত্যাগ করা। আয়াতুল্লাহ যদি চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তাহলে তাদের উচিত এসে আলোচনায় বসা। আলোচনার সময় চাপ থাকবে না।