খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৮

সমকাল ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত উত্তর লম্বকের একটি মসজিদে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। রোববারের ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মসজিদটির ভেতরে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের সময় ওই মসজিদে নামাজের জামাত চলছিল। এদিকে পর্যটন দ্বীপ লম্বক থেকে আরও অনেক আহতকে সরিয়ে নিয়েছেন দেশটির উদ্ধারকারী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার ভোর থেকে নিখোঁজ জীবিত মানুষের খোঁজে ফের তল্লাশি শুরু করেছেন তারা। খবর বিবিসি, রয়টার্স।

রোববারের ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ১০৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, বহু গ্রাম ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে অনেকে আটকা পড়ে আছেন। নিকটবর্তী পর্যটন দ্বীপ বালিতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেখানে দু'জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা। টুইটারে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (বিএনপিবি) মুখপাত্র সুতোপো পুর্বো নুগ্রহো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ তন্ন তন্ন করে জীবিতদের খোঁজ করছেন উদ্ধারকারীরা। পৃথক আরেক বিবৃতিতে বিএনপিবি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লম্বকের উত্তরাঞ্চলে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নুগ্রহো জানিয়েছিলেন, সেতু ধসে পড়ায় কিছু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লম্বকের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা কারাংকাউহানের ৪৫ বছর বয়সী বাসিন্দা রিদুয়ান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণ না পাওয়ায় নিজের খাবার কিনে খেতে হচ্ছে তার।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৩০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে বিএমকেজির তথ্য থেকে জানা গেছে। এদিকে লম্বকের মসজিদে নামাজ পড়ার সময় ভূমিকম্প শুরু হয়। কিন্তু ইমাম ভূমিকম্পের মধ্যে নামাজ চালিয়ে যান। ৫৩ বছর বয়সী কেলানা বলেন, ইমাম নামাজ ছাড়েননি। তাই নামাজিরাও জামাত থেকে বেরিয়ে যাননি। জাবাল নূর নামের ওই মসজিদে সে সময় কম পক্ষে ৫০ জন নামাজ পড়ছিলেন বলে জানা গেছে। ভেঙে পড়া মসজিদের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সুতোপো পুর্বো নুগ্রহো বলেন, মসজিদের দরজায় অনেক জোড়া জুতা রয়েছে। তাতে বোঝা যায় ভেতরে লোকজন আটকা পড়েছেন।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বা প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার এলাকায় অবস্থান হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের এক সুনামিতে ইন্দোনেশিয়াসহ ১৩টি দেশে মোট দুই লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। এর মধ্যে ইন্দোনেশীয় ছিল এক লাখ ২০ হাজার জনেরও বেশি।