চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

উইঘুর মুসলিমদের আটকে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মুসলমানকে বন্দিশিবিরে রাখার অভিযোগে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কোম্পানিগুলো। এটাই হবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের ওপর আরোপিত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম নিষেধাজ্ঞা। তবে কংগ্রেসসহ সরকারের সর্বস্তরে আলোচনার পরই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় যে কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করবে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত নজরদারি প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য বিক্রিও সীমিত করার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। চীনের নিরাপত্তা সংস্থা ও কোম্পানিগুলো উত্তর-পশ্চিম চীনে বসবাসকারী উইঘুরদের ওপর নজরদারির জন্য এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।

সংখ্যালঘু মুসলমানদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের জন্য চীনের নিন্দা জানানোর ব্যাপারে বেশ কয়েক মাস ধরেই হোয়াইট হাউস ছাড়াও অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। দুই সপ্তাহ আগে কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিনকে সাতজন চীনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলেন।

এর আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে তার মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে শাস্তি দেওয়া অথবা ব্যাপক লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতেও বাধা দিয়ে এসেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধেও দেশটিকে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাটি অনুমোদিত হলে দুই দেশের চলমান তিক্ততাকে যে অনেক বাড়িয়ে দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উইঘুরদের আটকে রাখার অভিযোগ ওঠার পর গত মাসে জাতিসংঘের একটি প্যানেল জেনেভায় চীনের কূটনৈতিকদের জবাবদিহিতা দাবি করেন। চীনা মুসলমানদের বন্দিশিবিরগুলো ক্রমে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের লক্ষ্য হয়ে উঠছে।