জাপানকে শান্তিচুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার

দ্বীপের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

জাপানকে শান্তিচুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার

ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের বাইরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে- এএফপি

চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করার জন্য জাপানকে প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। ভদ্মাদিভোস্টক শহরে একটি ব্যবসায়িক ফোরামের বৈঠক শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে এ প্রস্তাব দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন। খবর রয়টার্সের।

প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিতর্কের কারণে জাপান ও রাশিয়া এখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শত্রুতা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে আনতে পারেনি। এ কারণে দুই নিকটপ্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবার সেই শত্রুতা শেষ করারই প্রস্তাব দিলেন পুতিন।

ব্যবসায়িক ফোরামের প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি মঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলেন পুতিন ও আবে। ওই সময় আবের দিকে তাকিয়ে পুতিন বলেন, 'এইমাত্র আমার মাথায় একটি চিন্তা এলো। চলুন কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই এই বছর শেষ হওয়ার আগে একটি শান্তিচুক্তি করে ফেলি।' পুতিন বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা একটি প্রধান ইস্যু। পুতিন আরও বলেন, 'এর সবকিছুই আলোচনার বিষয় আর আমরা ৭০ বছর ধরে আলোচনা করে চলেছি।' একই সেশনে পরবর্তী সময়ে পুতিন আরও বলেন, এটা কোনো মজা করা নয়। তিনি মনে করেন, সবার আগে দু'পক্ষই একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে দু'পক্ষের যেসব ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে সেসব নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।

তবে পুতিনের প্রস্তাবের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। গত সোমবার জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছিলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা শান্তিচুক্তির দিকে যাচ্ছে।

ওইসব দ্বীপ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়ে রাশিয়া উদ্বিগ্ন হয়ে আছে। গত বছর জাপান সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি রাডার স্টেশন ও প্রতিরোধ যন্ত্র স্থাপন করবে। তা ওইসব দ্বীপেই বসতে পারে।

এদিকে পুতিনের প্রস্তাবমাত্রই যে জাপান তাতে রাজি হবে তার সম্ভাবনাও কম। জাপান রাশিয়ার কাছ থেকে ওই বিতর্কিত দ্বীপের মালিকানা ফিরে পেতে চায়। সে নিয়ে আগাম কোনো আভাস না পেলে টোকিও রাজি হবে বলে মনে হয় না। রাশিয়াও ওইসব দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে।