স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ

অবৈধ অভিবাসী ঠেকানোর আহ্বান ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' নামে বার্ষিক ভাষণও পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সেই ভাষণ দিয়েছেন ট্রাম্প। বরাবরের মতো এ ভাষণেও অবৈধ অভিবাসন থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

ভাষণে পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ট্রাম্প। প্রথমেই নিজের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সফল বলে উল্লেখ করেন তিনি। অবকাঠামো উন্নয়নে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এইডস দূরীকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ না করেই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করাকে নিজ প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টিও তুলে আনেন।

তবে ভাষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ওপর। ট্রাম্প বলেন, 'অভিবাসন পদ্ধতির সংস্কার যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জীবন ও চাকরির নিশ্চয়তা পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীবাহিনী ও রাজনীতিকদের মধ্যে বিভক্তির অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে অবৈধ অভিবাসীরা। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করে সে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।' প্রাচীর তৈরির 'স্বপ্ন' ভঙ্গ হলে জাতীয় সংকট তৈরি হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি করেন ট্রাম্প।

দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ নিয়ে তার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের যে বিরোধ শুরু হয়েছে, তা নিরসনে জাতীয় ঐক্যেরও ডাক দেন ট্রাম্প। ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, 'তার এ ভাষণ রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য নয়, এই ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র দুই দলের নয়, বরং এক জাতি হিসেবে পরিচালিত হবে। কোনো দলের জন্য জেতাটা বিজয় নয়, দেশের জন্য জয়ী হওয়ায় প্রকৃত বিজয়।'

বাণিজ্যনীতি শক্তিশালী করার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'চীন বহু বছর ধরে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার দখল করেছে। এসব বন্ধের সময় এসেছে। চীনা পণ্যের ওপর ২৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপর শুল্ক্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলার আয় হচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি।'