ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় বৈঠক ভিয়েতনামে

নির্ধারিত তারিখ ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। মঙ্গলবার রাতে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প জানান, আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে প্রথমবার ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন দুই নেতা। ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমাদের বন্দিরা বাড়িতে ফিরে এসেছে, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে আর গত ১৫ মাসের মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়নি। আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হতাম, তাহলে হয়ত এখন আমরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তাম। ট্রাম্প বলেন, কিম জং উনের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে যা দুই দেশের জন্য একটি ভালো বিষয়। আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।

২০১৮ সালের ১২ জুন সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠকটি ছিল উত্তর কোরিয়ার একজন নেতার সঙ্গে ক্ষমতাসীন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম বৈঠক। সেখানে দীর্ঘদিনের বৈরী দু'দেশ যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার অঙ্গীকার করে। ওই বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়া কোনো পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়নি। আটক থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও মুক্তি দিয়েছে তারা। আর যুক্তরাষ্ট্রও ওই বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের কোনো মহড়া চালায়নি।

প্রথম বৈঠকের পর থেকেই দুই দেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উল্লেখ না করায় এ নিয়ে দু'দেশের মধ্যে দরকষাকষি চলছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দ্বিতীয় বৈঠকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকে।

অবশেষে ট্রাম্প মঙ্গলবার কিমের সঙ্গে তার কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণা দিলেন। তবে ভিয়েতনামের কোন শহরে তাদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে তা জানাননি ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকটি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় অথবা ডা নাং শহরে হতে পারে।

কমিউনিস্ট শাসিত ভিয়েতনামের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই ভালো সম্পর্ক। ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য এই দেশটির নামই সবচেয়ে বেশিবার সুপারিশ করা হয়েছিল।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী একটি সূত্র জানায়, বৈঠকের জন্য উত্তর কোরিয়ার পছন্দনীয় স্থান ভিয়েতনাম। কারণ সেখানে তাদের দূতাবাস রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দনীয় জায়গা ডা নাংয়ে। সম্প্রতি সেখানে এপেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ জন্য শহরটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের আয়ত্তে রয়েছে।

এদিকে পরমাণু বিষয়ে আলোচনা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টেভ বিগান গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়া পৌঁছেছেন। কিমের সঙ্গে বৈঠকের ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তিনি পিয়ংইয়ং গেলেন। এ সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। দুই নেতার বৈঠকের স্থানও এ আলোচনায় নির্ধারণ হবে।