সৌদির পক্ষ নিয়ে ইয়েমেনে যুদ্ধে যাবে না মরক্কো

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

সৌদি জোটের হয়ে আর ইয়েমেনে যুদ্ধে অংশ নেবে না মরক্কো। সৌদির সঙ্গে মরক্কোর উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর এ ঘোষণা দিল তারা। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে মরক্কো সরকার। খবর পার্স টুডের।

বৃহস্পতিবার মরক্কোর এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার দেশের সেনারা আর সৌদির সঙ্গে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নিচ্ছে না রাবাত।

এর আগে কখনও মরক্কো সরকার ইয়েমেন যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণের কথা ফাঁস করেনি। তবে বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, আফ্রিকার এ দেশটি সৌদি জোটে ছয়টি বিমান ও ১৫০০ সেনা পাঠিয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুতি বিদ্রোহী ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহর সমর্থকরা জোটবদ্ধ হয়ে রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে নির্বাসনে যান। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনে হামলা চালানো শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাদের উদ্দেশ্য, দেশটির আন্তর্জাতিক পরিসরে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবু রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে স্থ্থিতিশীল করা। ওই যুদ্ধজোটের অংশ ছিল মরক্কোও।

এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের বিষয়ে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বৌরিতা মন্তব্য করেছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে চলতে থাকা ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে সেখানে দেখা দেওয়া মানবিক বিপর্যয় তাদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করেছে। বস্তুত সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলায় ইয়েমেনের আনুমানিক ৮৫ হাজার শিশু খাদ্যাভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। ২ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখই রয়েছে অনাহারে। খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮ শতাংশ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ।





মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর সৌদি আরব একটি তথ্যচিত্র প্রচার করতে শুরু করে, যাতে দেখানো হয় স্পেনীয়রা চলে যাওয়ার পর মরক্কো পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মরক্কো সৌদি আরব থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। মরক্কো মনে করে, পশ্চিম সাহারা এলাকাটি তার অংশ।