শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কোস্টারিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট অস্কার আরিয়াসের বিরুদ্ধে পাঁচ নারী যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। #মি টু আন্দোলনে লাতিন আমেরিকায় এত শীর্ষ পর্যায়ের কোনো রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনা এটিই প্রথম।

বিশ্বজুড়ে নারীদের কর্মক্ষেত্রে যৌন অসদাচরণের শিকার হওয়া নিয়ে মুখ খোলার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা #মি টু নামে পরিচিত। কোস্টারিকার দুইবারের প্রেসিডেন্ট অস্কার আরিয়াস লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে সম্মানিত রাষ্ট্রনায়কদের একজন। আলোচনার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ১৯৮৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

পরমাণুবিরোধী আন্দোলনকর্মী আলেক্সান্দ্রা আর্চ সর্বপ্রথম অস্কার আরিয়াসের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া নিয়ে মুখ খোলেন। যদিও আরিয়াস আইনজীবীর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আর্চের আনা যৌন অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করলেও আর্চের পর আরও চার নারী আরিয়াসের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন। তাদের একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক এমা দালি। তিনি জানান, ১৯৯০ সালে তিনি সেন্ট্রাল আমেরিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। ওই সময় নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ায় একটি হোটেলের লবিতে একদল সাংবাদিক আরিয়াসের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দলে আমিও ছিলাম। তিনি সামনে এলে আমি তাকে একটি প্রশ্ন করি। আমার প্রশ্ন শুনে তিনি থামলেন, আমার দিকে তাকালেন এবং উত্তর দেওয়ার বদলে নিজের হাত বাড়িয়ে আমার বুক স্পর্শ করে বলেন, 'তুমি তো ব্রা পরোনি।' তার পর চলে গেলেন। এতে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। কথাও বলতে পারছিলাম না। ক্ষোভের সঙ্গে দালি বলেন, পেশাগত জীবনে তিনি দারুণ সফল একজন ব্যক্তি হওয়ার অর্থ এই নয় যে, অন্য মানুষের সঙ্গে এ রকম ব্যবহার করার লাইসেন্স তিনি পেয়ে গেছেন।

মন্তব্য করুন