ছাই-লাভার সেই দ্বীপে জেগেছে প্রাণ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বছর চারেক আগে প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গার কাছে জেগে উঠেছিল একটি দ্বীপ। দ্বীপটি আপাতত হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হা'আপেই নামে পরিচিতি পেয়েছে। বিস্ময়কর এ দ্বীপে এখন ফুলের সমারোহ আর পাখির কলকাকলি। 'সি এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন' এবং নাসার বিজ্ঞানীরা গত অক্টোবরে দ্বীপটি দেখতে যান। এর আগে স্যাটেলাইট তোলা ছবি দিয়েই এ দ্বীপ পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা।

অস্ট্রেলিয়ার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের ১৭০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত টোঙ্গার রাজধানী থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নতুন এ দ্বীপটি জেগে ওঠে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে।

ওই সময় ফুঁসে উঠেছিল সাগরতলের হুঙ্গা টোঙ্গা আগ্নেয়গিরি। এর অগ্ন্যুপাত থেকে উদ্গিরণ হওয়া ছাই, লাভাই পরে থিতু হয়ে পানির ওপরে জমে শক্ত হয়ে ৫০০ মিটার লম্বা ও আড়াইশ' মিটার উঁচু এ দ্বীপ সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি পর্যালোচনা করে এমনটিই জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। হুঙ্গা টোঙ্গা ও হুঙ্গা হা'আপেই নামের দুটি পুরনো দ্বীপের মাঝখানে নতুন দ্বীপটি জেগে ওঠায় এর নাম হয়েছে 'হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হা'আপেই'।

সমুদ্রের নিচে আগ্নেয়গিরি ফুঁসে উঠে দ্বীপ সৃষ্টি হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই হুঙ্গা টোঙ্গা দ্বীপটি এক আশ্চর্য দ্বীপ বলেই অভিমত বিজ্ঞানীদের। কারণ সাধারণত এমন দ্বীপগুলো কয়েক মাস জেগে থাকে, তারপর তলিয়ে যায় সমুদ্রে। অথচ এ দ্বীপটি টিকে আছে চার বছর ধরে। গত দেড়শ' বছরের ইতিহাসে এত বেশিদিন কোনো দ্বীপ টিকে থাকেনি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এক্ষেত্রে খুব সম্ভবত আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের সঙ্গে সমুদ্রের পানির রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে এটি টিকে থাকার মতো বেশি মজবুত হয়েছে। অনেকটা আইসল্যান্ডে ১৯৬০-এর দশকে একইভাবে জেগে ওঠা একটি দ্বীপের মতো। নাসার গবেষক ড্যান স্লেব্যাকসহ আরও কয়েকজন বিজ্ঞানী অক্টোবরে দ্বীপটিতে ঘুরতে গিয়ে সেখানে গোলাপি রঙের ফুল ফোটা গাছ, টার্ন পাখি এমনকি পেঁচাও দেখেছেন।



আশপাশের দ্বীপ থেকে পাখি ওই দ্বীপে এসেছে এবং তাদের আনা বীজ থেকেই গাছপালা সেখানে জন্মেছে বলে ধারণা তাদের।

দ্বীপটির মাটি হালকা রঙের, চটচটে কাদামাটির মতো। আর এ মাটি বেশ উর্বর বলেও মত বিজ্ঞানীদের। সূত্র বিবিসি।