মোদি-মমতা বাগ্‌যুদ্ধ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

তুমুল বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়ে সিবিআই ও রাজ্য পুলিশের নাটকীয় ঘটনায় মমতার ধরনার জের ধরে শুরু হয়েছে এই বাগ্‌যুদ্ধ। কলকাতার ধরনা দিল্লি যাবে- এমন খবরে শুক্রবার উত্তরবঙ্গে এক সমাবেশে মোদি মমতাকে 'লুটেরা-দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষক', 'চোরের মায়ের বড় গলা' বলে কটাক্ষ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে 'দুর্নীতির গুরুঠাকুর' বলে কটাক্ষ করেন মমতা। এ নিয়ে আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। খবর আনন্দবাজারের।

সারদা দুর্নীতি মামলা তদন্তের নামে কলকাতায় পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়ি গিয়ে রোববার সন্ধ্যায় আটক হন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইর 'অতি সক্রিয়' কর্মকর্তারা। এ নিয়ে সেই রাতেই কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদী ধরনায় বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তার অভিযোগ, বিজেপি সরকার লোকসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের জব্দ করার চেষ্টা করছে। তাই 'দেশ ও সংবিধান' রক্ষায় তার এই সত্যাগ্রহ অবস্থান। তার এ অবস্থান ধর্মঘটে সংহতি জানায় কংগ্রেসসহ বিজেপিবিরোধী দলগুলো। অন্ধ্র্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, বিহারের লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদবসহ বেশ কয়েকজন নেতা মমতার মঞ্চেও যান। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনীতি। বিভিন্ন মহলে চলতে থাকে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এসব নিয়ে উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়িতে শুক্রবার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই যাওয়ার পর মমতার ধরনা নিয়ে মোদি বলেন, 'স্বাধীনতার পরে এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী প্রতারক-লুটেরাদের বাঁচাতে দিনদুপুরে ধরনায় বসেছেন। যারা টাকা লুট করেছে, তাদের রক্ষা করতে চান? গরিবের ওপর যারা জুলুম করেছে, তাদের রক্ষক হতে চান?' এর পরেই তার ঘোষণা, 'গরিব মানুষের টাকা যারা লুট করেছে, প্রতারণা করেছে, চৌকিদার তাদের কাউকে ছাড়বে না।' মোদি আরও বলেন, কলকাতায় দুর্নীতিগ্রস্তদের মঞ্চ হয়েছে। সবাই এসে সেখানে মোদি-মোদি করছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত, অভিযুক্ত যারা, তারাই মোদিকে ভয় পান। এদিকে মমতাকে দুর্নীতির রক্ষক বলার দিনই পার্লামেন্টে আসে বহুল আলোচিত রাফায়েল দুর্নীতি নিয়ে একটি তদন্ত নথি। এ নথি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তৎপর ছিলেন মমতা। এরপর মোদির গলা চড়ানোয় পেয়ে বসেন তিনি। মোদির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মমতা বলেন, 'যিনি ওসব বলছেন, তিনি নিজেই তো দুর্নীতির গুরুঠাকুর। তার মতো দুর্নীতিবাজ ভারতে জন্মায়নি।'

মোদির রাফায়েল দুর্নীতি ইস্যুতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে মতবিনিময় হয় মমতার। তিনি রাহুলকে জানান, এ নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে একসঙ্গে লড়াই করবেন।

সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলেনে মোদির অভিযোগের জবাবে তাকে 'মাডি' (কর্দমাক্ত) বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, 'মাডি সরকার ভীত, সন্ত্রস্ত। যারা ভয় পায়, তারাই তো ভয় দেখায়! বিরোধীরা একজোট হয়েছে বলে ওরা আরও ভয় পাচ্ছে। ভয় পেয়ে ভূরি ভূরি মিথ্যা বলছেন তিনি। আর আমি মুখ খুলি বলে আমার বিরুদ্ধে বেশি আক্রমণ হচ্ছে। কী বলতে চায় ওরা? বিজেপিতে গেলে সৎ আর বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই দুর্নীতিগ্রস্ত!' তার হুঁশিয়ারি, মাডি আমাকে চেনেন না। আমি আপাদমস্তক মার খেয়ে, রাস্তায় লড়াই করতে করতে রাজনীতি করেছি। উনি এলেন কবে! ক'দিন রাজনীতি করছেন? অর্থবলের কারণে মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক।

মমতা বলেন, 'ভয় দেখিয়ে আমার মাথা নোয়ানো যাবে না। সব বিরোধী দল এখন একজোট। লক্ষ্য একটাই, মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও।'