রাখাইন গ্রামে গোলা নিক্ষেপ ত্রাণ নিতে বাধা

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনী শেল বা গোলা নিক্ষেপ করছে। এ ছাড়া বেসামরিক লোকজনকে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে বাধা দিচ্ছে নিরাপত্তা কার্মীরা। গত ডিসেম্বর থেকে সেখানে এ ঘটনায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫ হাজার ২০০ জন। গতকাল সোমবার মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আলজাজিরার।

এ বছর জানুয়ারির শুরুতে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা করে সশস্ত্র আরাকান আর্মি নামের একটি গ্রুপ। তারপর থেকে নতুন করে এই দমন-পীড়নের বিষয়ে অভিযোগ তুলল অ্যামনেস্টি। সংগঠনটির ক্রাইসিস রেসপন্স বিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, এটি আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কোনো রকম মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না। যে কোনো পরিস্থিতিতে বসতি আছে এমন গ্রামের ওপর গোলা নিক্ষেপ ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা সমর্থনের অযোগ্য।

অ্যামনেস্টি বলেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর যে ডিভিশনগুলো নৃশংসতায় জড়িত ছিল, তাদের সম্প্রতি রাখাইনে ফের মোতায়েন করা হয়েছে। তিরানা হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও ভয়াবহভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোমবার রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার বিষয়ে নতুন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। এর শিরোনাম 'মিয়ানমার : ফ্রেশ এভিডেন্স অব ভায়োলেশনস অ্যামিড অনগোয়িং মিলিটারি অপারেশন ইন রাখাইন স্টেট।'

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে রাখাইনে বেসামরিক মানুষদের আটক করার ক্ষেত্রে অস্ত্র ও নিষ্পেষণমূলক আইন ব্যবহার করছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। আর এসব ঘটছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট হওয়ার পরও।

ওই রিপোর্টে মিয়ানমারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানানো হয়।