থমকে গেছে আরেকটি আলোচনা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ প্রাপ্তিসহ চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিক ও ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা। আশা করা হচ্ছিল, গতকাল সোমবারের মধ্যে একটা সমঝোতা হতে পারে দুই পক্ষের মধ্যে। তবে গতকালই ফের মাঝপথে থেমে গেছে তা। এ বিষয়ে শুক্রবারের মধ্যেই একটা সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছিল সিনেটে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আংশিক অচলাবস্থা অবসানে ২৫ জানুয়ারিতে হওয়া তিন সপ্তাহের চুক্তিটির সময়সীমা শুক্রবার শেষ হবে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি ও তার দাবিকৃত অর্থবিলই দুই পক্ষের মতভেদের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় নতুন কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়া শুক্রবারের সময়সীমা পার হলে ফের আংশিক অচলাবস্থায় পড়বে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এর আগে কাটানো একটানা ৩৫ দিন আংশিক অচলাবস্থা নতুন রেকর্ড গড়ে। এ সময় দেশটির প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মী বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটায়।

অভিবাসীদের আটক করার নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের মধ্যে বিরোধের পর চলমান আলোচনা থমকে যায় বলে রোববার জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর রিচার্ড শেলবি। আলোচনায় রিপাবলিকানদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাটরা চায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে যে পরিমাণ বিছানা আছে তা কমানো হোক এবং আইসিই কর্মকর্তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবস্থান করছে, তাদের বদলে যেসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড আছে, তাদের আটক করুক।

এসব শর্তের বিনিময়ে রিপাবলিকানদের সীমান্ত দেয়ালের জন্য কিছু অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে তারা, কিন্তু তা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক কম।

রোববার ফক্স নিউজকে শেলবি বলেছেন, আমরা সেখানে পৌঁছতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। চুক্তির সম্ভাবনা ৫০-৫০। অচলাবস্থার অপছায়া সবসময়ই ঘিরে ছিল।

ডেমোক্র্যাট নেতারা মধ্যস্থতাকারীদের একটি সমঝোতায় পৌঁছতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। গত মাসে তিনি আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছিলেন।

নতুন করে ফের অচলাবস্থা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, পররাষ্ট্র, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফের অর্থ সংকটে পড়বে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় আট লাখ কর্মচারী ফের বেতন পাবে না।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের উদ্ৃব্দতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীরা কীভাবে এ অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করবেন, তা এখনও অস্পষ্ট রয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটের ১৭ জন মধ্যস্থতাকারী সিনেট ও হাউসে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

এর আগে অচলাবস্থা কাটাতে একটি সমঝোতায় আসে ট্রাম্পের রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটে দুই দলের দুটি বিপরীতধর্মী প্রস্তাবে ভোটাভুটি হয়। বিল দুটি পাসের জন্য ১০০ আসনের সিনেটে ৬০ ভোট দরকার ছিল। তবে রিপাবলিকানদের প্রস্তাব ৫০-৪৭ এবং ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাব ৫২-৪৪ ভোট পাওয়ায় তার কোনোটিই পাস হয়নি।