আফগানিস্তানে শান্তি আনতে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে গত মঙ্গলবার বৈঠক শেষে উভয়পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ১৬ দিনের এ আলোচনা আপাতত শেষ হলেও মার্চের শেষদিকে আবার শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

দোহার সমুদ্র-তীরবর্তী পাঁচ তারকা রিটজ-কার্লটন হোটেলের ব্যাংকোয়েট হলে গত মাসে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এ রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়। আলোচনায় তালেবানের নেতৃত্ব দেন দলটির রাজনৈতিক প্রধান মোল্লা আবদুল গণি বারাদার এবং যুক্তরাষ্ট্র দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশেষ দূত জালমেই খলিলজাদ।

আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতার বিষয়ে নিশ্চয়তা এবং আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া অভিজ্ঞ কূটনীতিক খলিলজাদ। এক টুইটে তিনি জানান, শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলোর উন্নতি হয়েছে। সবপক্ষই যুদ্ধের শেষ চায়, এটা পরিস্কার। উত্থান-পতন সত্ত্বেও তারা বিষয়গুলোকে এক জায়গায় রাখতে পেরেছে এবং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিদেশি বাহিনীগুলোর প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আফগানিস্তান থেকে অন্যান্য দেশে হামলা বন্ধ করার মতো ইস্যুগুলোতে দু'পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি বা আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।



এদিকে খলিলজাদের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তালেবান শান্তি আলোচনার বেশ কয়েকটি পর্বে অংশ নিলেও আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে খলিলজাদ জানিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের সময় এবং কার্যকর সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপের বিষয়ে সমঝোতার খসড়া যখন চূড়ান্ত হবে তখন তালেবান সরকারসহ অন্যান্য আফগান রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির এক মুখপাত্র টুইটারে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা এবং তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে সরাসরি আলোচনার শুরু দেখার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

৯/১১ হামলার পর আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তালেবান সরকার উৎখাত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ১৮ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবার আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিরা। গত মাসে দোহায় শুরু হয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা। আশা করা হচ্ছিল, এ আলোচনা থেকে ফলপ্রসূ কোনো সমাধান আসবে।

মন্তব্য করুন