সংরক্ষিত আসনে কে কতটা শক্তিশালী

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির গতবারের জয়ের পেছনে দেশটির সিডিউল কাস্ট ও সিডিউল ট্রাইবস সম্প্রদায়ের বিশেষ ভূমিকা ছিল। দেশটির নির্বাচন কমিশনের এক বিশ্নেষণ থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। নিম্নবর্ণের এসব সম্প্রদায়ের ভোটারদের বিজেপির শক্তির মূল উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসও এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় আটটি নির্বাচনে সিডিউল কাস্ট ও সিডিউল ট্রাইবস সম্প্রদায়ের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। দলিত ও হরিজন নামে তারা পরিচিত। তবে সাংবিধানিকভাবে তাদের দলিত বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের জন্য মোট নির্ধারিত আসন ১৩১টি। এর মধ্যে সিডিউল কাস্টের জন্য সংরক্ষিত ৮৪টি আসন এবং সিডিউল ট্রাইবসের জন্য ৪৭টি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ৯৭৬ জন এমপি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ ভোট পেয়েছে বিজেপি এবং ২৮ ভাগ কংগ্রেস।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ী হওয়ার পেছনে সিডিউল কাস্ট ও সিডিউল ট্রাইবস বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এর আগে দলিত সম্প্রদায়ের এ ভোটাররা কংগ্রেসকে একচেটিয়া ভোট দিলেও গত নির্বাচনে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে ১৩১টি সংরক্ষিত আসনের ৬৬টিতে জয় পায় বিজেপি।

বিশ্নেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কংগ্রেসের ভোট কমার পেছনে এটিও একটি কারণ। সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে সিডিউল কাস্ট ও সিডিউল ট্রাইবস  ভোটের মূল শক্তি।

রাজনৈতিক বিশ্নেষক এস মহাদেব প্রকাশ বলেন, সংবিধানের দিকে তাকালে দেখা যায় যে সিডিউল কাস্ট ও সিডিউল ট্রাইবস সম্প্রদায়ের লোক শতকরা ৪০ থেকে ৪৫ ভাগের বেশি নয়। ফলে অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোট সংরক্ষিত আসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৮৯ সাল থেকে আটটি নির্বাচনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে বিজেপি টানা পাঁচবার বেশি ভোট পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও সংরক্ষিত আসনে আধিপত্য ধরে রাখতে চায় তারা।