মোদি বনাম তিন নারীর লড়াই

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

বাগ্মিতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুব একটা দমাতে পারেননি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তবে তিন নারীনেত্রীর কথার তীরে বিদ্ধ হওয়া থেকে রেহাই পাননি মোদি। তিন নারীনেত্রী হলেন- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (উত্তর প্রদেশ) প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়ে এই তিন নারীনেত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে তোপ দেগেছেন। অনেক সময় তা সামাল দেওয়া মোদির জন্য মুশকিল হয়েছে। খবর স্টেটসম্যানের।

মোদির সঙ্গে একাধিকবার বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়েছেন মমতা। এবারের নির্বাচনী প্রচারে একে অপরকে যত নেতিবাচক এবং উৎকট আক্রমণ করে তারা বক্তব্য দিয়েছেন তা নজিরবিহীন। বাংলা মমতার 'জমিদারি' নয় বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মোদি। পাল্টা মোদিকে 'মিথ্যাবাদী' আখ্যা দিয়ে জেলে পোরারও হুমকি দিয়েছেন মমতা। বিশ্নেষকরা বলছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মোদি বোঝাতে চাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে জয় পেতে বিজেপি আটঘাট বেঁধে লেগেছে। পশ্চিমবঙ্গে মোদি রেকর্ড ১৯টি নির্বাচনী সভা করেছেন। বেশ কয়েকটি নির্বাচনী সভা করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। শেষ মুহূর্তের প্রচারে এসে কলকাতায় তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষেও জড়িয়েছে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল। তৃণমূল পেয়েছিল ৩৪ আসন। বিজেপি এবারে পশ্চিমবঙ্গে নিরঙ্কুশ জয় চাচ্ছে। আবার পশ্চিমবঙ্গে ৩৩ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ থেকে টানা দুই মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামপন্থি এবং কংগ্রেসকে সফলভাবে হটিয়েছেন তিনি। এবারে তাকে লড়তে হচ্ছে বিজেপির সঙ্গে। সোজাসাপ্টাভাবে মমতা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ঝুলন্ত সংসদ হলে এবং ৩০টির বেশি আসন পেলে মমতা সে দৌড়ে এগিয়ে যাবেন।

মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া আরেক নারী হলেন বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী। এবারের নির্বাচনে দল ভালো ফল না করলে উত্তর প্রদেশের এই নেত্রীর রাজনৈতিক শক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মায়াবতীর দল উত্তর প্রদেশে কোনো আসনই পায়নি। যেখানে ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৩টি পেয়েছিল বিজেপি। আবার ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মায়াবতীর দল পেয়েছিল মাত্র ১৯ আসন। এসব সমীকরণ মাথায় রেখে বিজেপিকে রুখতে এবারের নির্বাচনে মায়াবতী জোট বেঁধেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে।

এমন জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে মায়াবতী-মোদি আক্রমণাত্মক বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন বারবার। মোদিকে উদ্দেশ করে মায়াবতী বলেছিলেন, 'আমি শুনেছি বিজেপি নেতাদের স্ত্রীরা অনেক ভয়ে থাকেন। বিশেষ করে তাদের স্বামীরা যখন মোদির সঙ্গে দেখা করতে যান। কারণ ওই নারীরা মনে করেন মোদির সঙ্গে দেখা করে এসে মোদির মতোই তাদের স্বামীরাও তাদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন।' একই রকমের মন্তব্য মমতাও করেছেন। দুই নেত্রী মোদিকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে একে অপরকে সমর্থনও দিয়েছেন। মায়াবতীও এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তার দল তাকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণাও করেছে ইতিমধ্যে।

এবারে আসা যাক তৃতীয় নেত্রীর কথায়। তিনি কংগ্রেসের জনপ্রিয় নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি কংগ্রেস সভাপতির রাহুল গান্ধীর বোন। গত জানুয়ারিতে রাজনীতিতে যোগ দিলেও মোদিকে আক্রমণে তিনিও পিছিয়ে ছিলেন না। মোদির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত বারাণসীতে ফুরফুরে মেজাজেই নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। মোদিকে নিয়ে বিদ্রূপ করতেও ছাড়েননি তিনি। এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে নেহেরু এই করেছেন, ইন্দিরা ওই করেছেন বলে বেড়ানো ছাড়া আপনার অর্জন কি? আপনি করলেনটা কী?'

মমতা এবং মায়াবতী পোড় খাওয়া নেত্রী। প্রিয়াঙ্কা রাজনীতির ময়দানে নতুন নেমেছেন। তাকে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে। তার পরও বলতে হয়, এবারের নির্বাচনী প্রচারে এই তিন নারীনেত্রী মোদিকে কথার আক্রমণে যেভাবে নাস্তানাবুদ করেছেন, তা নজিরবিহীন। মোদি প্রধানমন্ত্রী হন বা না হন, এই তিন নারীকে তিনি মনে রাখবেন।