বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

মোদির সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠক, বশিরহাটে বন্‌ধ, বিজেপির 'কালো দিবস' পালিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

তিন কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে 'কালো দিবস' পালন করে বিজেপি- এএফপি

বিজেপির তিন কর্মী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বশিরহাটে বন্‌ধের ডাক দেয় বিজেপি। এ সময় রেল ও সড়কপথ অবরোধ করে রাখে নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া দিনটি 'কালো দিবস' হিসেবে পালন করেছে রাজ্য বিজেপি। এদিকে রাজ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করেছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। এ ছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এসব বৈঠক করেন। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিজেপি-তৃণমূল। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

গতকাল বৈঠক শেষে রাজ্যপাল জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সন্দেশখালীর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তবে তাদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানাননি রাজ্যপাল কেশরীনাথ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে বিজেপির 'ব্লক সভাপতি' হিসেবে অখ্যায়িত করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, মমতাকে যা খুশি বলতে দিন। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক নাগরিকই রাজ্যটির গভর্নর।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের। শনিবার সন্দেশখালীর হাটগাছিয়ায় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে চারজন নিহত হলে সে বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজ্যপালের প্রেস সচিব মানব বন্দ্যোপাধ্যায় রোববারই জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি রাজ্যপালের কাছে সন্দেশখালী সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে রাজ্যপাল নিশ্চয়ই জানাবেন। সোমবার বৈঠকে ঢোকার আগে রাজ্যপাল নিজেও বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে তিনি নিশ্চয় জানাবেন।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও অমিত শাহ আলাদা করে বৈঠক করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং সন্দেশখালীর সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক নজর রাখছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

তিন কর্মী হত্যার প্রতিবাদে গতকাল পশ্চিমবঙ্গে 'কালো দিবস' পালন করেছে বিজেপি। এ ছাড়া বশিরহাটে ১২ ঘণ্টার বন্‌ধ পালন করেছে দলটি। কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়েছে, কোথাও রেল অবরোধ করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের  খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি দাবিতে  বিভিন্ন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে  স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীরা। কলকাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর, কেশিয়াড়ি, পুরুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় 'কালো দিবস' উপলক্ষে পথে নামে বিজেপির নেতাকর্মীরা। আগামীকাল বুধবার রাজ্যে 'মহাধিক্কার মিছিল' করবে বিজেপি।

অন্যদিকে সন্দেশখালীর হাটগাছিয়ার পরিস্থিতি গতকালও স্বাভাবিক হয়নি। পুরো এলাকা ছিল থমথমে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। শনিবার সংঘর্ষের পর থেকেই ওই এলাকায় বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট।

রোববার রাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে বিশেষ পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজ্যের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিবেদনও চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এ ছাড়া রাজ্য পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এসব পরামর্শ আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল। দলটি কেন্দ্রের এসব নির্দেশনাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র' হিসেবে দেখছে।

রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো শান্তিপূর্ণ রাজ্যকে কেন্দ্র কেন বিশেষ পরামর্শ দেয়? কেন্দ্র কেন উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাটের রাজ্য সরকারকে বিশেষ পরামর্শ দেয়  না? পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ঘড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা কেন্দ্রকে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ (রাষ্ট্রপতির শাসন) আরোপের ব্যাপারে সাবধান করে  দিতে চাই।

অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় কুমার দে জানান, পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যে অল্প কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।