পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে সহিংসতা রাষ্ট্রপতি শাসনের ধুয়া

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

কলকাতা প্রতিনিধি

একের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনায় জেরবার মমতা সরকারের প্রশাসন। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত সোমবার তৃণমূলের দুই কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় এক ডজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এসব নিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি মোদি সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে ধুয়া তোলা হচ্ছে, মমতার সরকার ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।

এমনিতেই প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত থেকে পৌরসভা- তৃণমূল সদস্যরা দল ছেড়ে বেরিয়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তার ওপরে সহিংসতার ঘটনা রুখতে বেসামাল হয়ে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছেন, রাজ্যের পুলিশই তার সরকারের কথা শুনছে না। এ নিয়ে সোমবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীসহ নানা প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী। এরপর মমতাও পুলিশকে একহাত নেন।

অন্যদিকে, সন্দেশখালীতে বিজেপির দুই কর্মী খুনের ঘটনা, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়া ও নৈহাটি, কোচবিহারের শিতলকুচিতে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষসহ একাধিক ঘটনা নিয়ে মমতার ওপর চার সৃষ্টি করছে মোদি সরকার। এর মধ্যেই চলছে খুন, পাল্টা খুনের রাজনীতি। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন ঘটনায় বাড়ছে আহত ও ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপি নেতা মুকুল রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'খুনি' বলে অভিহিত করেন। এ সুযোগে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের যে দাবি তুলেছে, তার বিরুদ্ধে মমতা বলেছেন, এমন কিছু করার চেষ্টা করা হলে বিজেপিকে দেখিয়ে দেওয়া হবে, কত ধানে কত চাল।