কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

কে হচ্ছেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী, তার ওপর নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন, রাশিয়া থেকে ভারত এমনকি পুরো বিশ্বের। বহু জাত-বর্ণের এ দেশে বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের মানুষের বসবাস রয়েছে কমবেশি। ফলে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে, তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এরই মধ্যে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) ১০ প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছেন। ব্রিটের আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ১০ প্রার্থীর মধ্যে যিনি টোরি পার্টির প্রধান হবেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তিনি হবেন প্রধানমন্ত্রী। এখন শুরু হয়েছে প্রার্থীদের যোগ্যতা প্রমাণের আনুষ্ঠানিক লড়াই। টোরি পার্টির সদস্য ও সাংসদ মিলে প্রায় দেড় লাখের বেশি ভোটারের ভোটে নির্বাচিত হবেন দলীয় নেতা। তবে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক এমপির সমর্থন নিয়ে এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে অন্যরাও নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেতা নির্বাচনে এই প্রচারকে আরও জমিয়ে তুলছেন। খবর বিবিসি, গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ১০ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা '১৯২২' নামের কমিটি। টোরি দলের ১৯২২ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ডেইম শেরল গিলান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের মন্ত্রিসভার পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ররি স্টুয়ার্ট, সাবেক চিফ হুইপ মার্ক হারপার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, সাবেক লিডার অব দ্য হাউস আন্ড্রেয়া লেডসাম, সাবেক শ্রম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী এস্টার ম্যাকভেই ও সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাব। তবে এ দৌড়ে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে একমাত্র স্যাম গাইমার নিয়ম অনুযায়ী, দলীয়প্রধানের পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কমপক্ষে আটজন এমপির সমর্থন লাগে। তবে গাইমা তা জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি তিনি। চূড়ান্ত তালিকায় থাকা দশজনের মধ্যে প্রচার লড়াইয়ে আগেভাগে মাঠে নামেন জেরেমি হান্ট, ম্যাট হ্যানকক, মাইকেল গোভের মতো প্রার্থীরা। তবে এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ১০ জনকেই ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদের (ব্রেক্সিট) চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ব্রেক্সিট নিয়ে ভিন্নমতও দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া ভালো, কেউবা তার বিরোধিতা করছেন। বেশির ভাগ প্রার্থী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি বা চুক্তি ছাড়াই ইইউ ছাড়ার পক্ষে মতামত দিচ্ছেন। তবে গতকাল ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, ঠিক অক্টোবরের মধ্যেই ব্রিটেনকে ইইউ ছাড়তে হবে- এমন কোনো বিষয় নেই। এ কথা যারা বলছেন, তারা ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু অক্টোবরের মধ্যে না হলেও ব্রেক্সিটের একটি সময়সীমা নির্ধারণের পক্ষে তিনি।

হ্যানকক আরও বলেন, 'চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট আটকে দেবে পার্লামেন্টে। আর তা যদি হয়, তাহলে দেশ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।' এ অবস্থানের কারণে হ্যানকক বেশ ভালোই সমর্থন কুড়াতে সক্ষম হচ্ছেন। তবে ভোটের লড়াইয়ে তার পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ, ব্রেক্সিট ছাড়াও নেতা নির্বাচনের প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে অভিবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ও। তবে ব্রেক্সিট ছাড়ার পক্ষে একাট্টা বরিস জনসন এরই মধ্যে তার পক্ষে ৬০ জনের মতো এমপির সমর্থন পেয়েছেন। এত বেশি এমপির সমর্থন এখনও কারও পক্ষে নেই। এ হিসেবে নেতা নির্বাচনের দৌড়ে জনসনই এখনও এগিয়ে রয়েছেন।