বিজেপি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কলকাতা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯

রক্তিম দাস, কলকাতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সন্দেশখালীতে তিন কর্মী নিহত ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ করেছে বিজেপি। গতকাল বুধবার রাজ্য বিজেপির ওই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান দলটির নেতাকর্মীরা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারের দিকে যেতে চাইলে লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস শেল ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হন। বিজেপি কর্মীরা পাল্টা পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছুড়ে মারেন। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজভবনে চারটি রাজনৈতিক দলকে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

শনিবার সন্দেশখালীতে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজেপির তিন কর্মী নিহত হন। দলটির দাবি, রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকালের বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিজেপির ১৮ জন সংসদ সদস্যই যোগ দেন। এ ছাড়া রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিজয় বর্গীয়, জ্যেষ্ঠ নেতা মুকুল রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সুবোধ মল্লিক স্কয়ারে জড়ো হতে থাকেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে আগে থেকেই সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তাই বিভিন্ন জায়গায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রাজ্য সরকার। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। লালবাজার এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নজরদারি চালাতে ড্রোনের সাহায্যও নেওয়া হয়।

সংঘর্ষের পর রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে তিনি বলেন, এই আন্দোলন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে। কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, মমতার সরকার আর বেশি দিন নেই। সংসদ সদস্য লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, মমতা রাজ্যকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তার পদত্যাগ করা উচিত। বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ মিছিল থেকে স্লোগান দেন, 'দ্যাখ বিজেপির ক্ষমতা, ভয় পেয়েছে মমতা'।

সর্বশেষ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ভাটপাড়ায় গত সোমবার তৃণমূলের দুই কর্মী নিহত হন। তৃণমূল এ ঘটনায় বিজেপিকে অভিযুক্ত করেছে। এ ছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত প্রায় এক ডজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। বিজেপি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরাই বারবার এসব সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। এ নিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী মোদি সরকারে কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা হোক।

তবে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে মমতা বলছেন, তার সরকারকে বিপদে ফেলতেই রাজ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির বিষয়ে মঙ্গলবার তিনি বলেন, 'অত সস্তা নয়। বলা খুব সহজ। আমরা হাতে চুড়ি পরে বসে নেই।'