শুরুতেই ধাক্কা খেলেন মোদি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সরকারের নীতি বাস্তবায়নে ধাক্কা খেলেন। ভারতজুড়ে হিন্দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ভাষা করার জন্য তৈরি শিক্ষানীতি আন্দোলনের মুখে ভেস্তে গেল। তামিলনাড়ূ, কেরালাসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো হিন্দি শেখাকে বাধ্যতামূলক করার ঘোর বিরোধিতা করে। এ আন্দোলনে তামিলনাড়ূর এডিএমকের মতো বিজেপির জোট শরিক রাজনৈতিক দলও যুক্ত হয়। বিষয়টিকে দ্বিতীয় মেয়াদের মোদির প্রথম ধাক্কা হিসেবে দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

বিজেপির ক্ষমতায় আসার পেছনে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হিন্দি ভাষাভাষি রাজ্যগুলোর অবদান রয়েছে। হিন্দি বলয়ে বিজেপির জনপ্রিয়তা বেশি। মোদি প্রথমবার ক্ষমতার আসার পর হিন্দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ভাষা করতে চেয়েছিলেন। সে সময় পারেননি। দ্বিতীয় মেয়াদে দিল্লির গদিতে বসার পরপরই তার সরকার সেই উদ্যোগ নেয়। তবে এবারও তা আলোর মুখ দেখল না। আগের মতো শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ মতো ভাষা বেছে নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকালে শিক্ষানীতির খসড়া সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার। হিন্দি বাধ্যতামূলক করার বদলে তাতে 'নমনীয়' শব্দটি যোগ করা হয়, যার ফলে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে নিজেদের পছন্দ মতো ভাষা বেছে নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। সংশোধিত নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীনই তিনটি ভাষার মধ্যে একটি বা তার বেশি ভাষার পরিবর্তন করতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। এ ব্যাপারে তারা স্কুলের শিক্ষকদেরও সাহায্য নিতে পারবে। যে ভাষায় স্কুলে পড়া সুবিধা, সেটাই বেছে নেওয়া যাবে বলে সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ককে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরেই গত শনিবার কে কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন কমিটি জাতীয় খসড়া শিক্ষা নীতি পেশ করে। সেখানে তিন ভাষার ফর্মুলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যার মধ্যে মাতৃভাষা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক করা হয় হিন্দি।

এর বিরুদ্ধে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর ওপর জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিলে দেশের বহুত্ববাদী চিন্তাধারায় আঘাত লাগবে বলে জানায় আন্দোনকারীরা। তামিলনাড়ূতে শুধু তামিল ও ইংরেজি শেখানো হবে বলে জানিয়ে দেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী কে এ সেঙ্গোত্তাইয়ান। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ই পলানীস্বামী। প্রতিবাদে সরব হন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টজনও।

এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে সাধারণ মানুষকে

আশ্বস্ত করেন তারা। তার পরই গতকাল সকালে সংশোধন করা হয়।