অভিবাসী ঠেকাতে সীমান্তে মেক্সিকোর সশস্ত্র বাহিনী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক্কারোপের হুমকির পর গুয়েতেমালা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে ছয় হাজার সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করেছে মেক্সিকো সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড বর্তমানে ওয়াশিংটন অবস্থান করছেন। অভিবাসী ইস্যুতে মেক্সিকোর পণ্যের ওপর ট্রাম্প সরকারের শুল্ক্কারোপ বন্ধের চেষ্টা করছেন তিনি। এ বিষয়ে দু'পক্ষের আলোচনা চলছে। তবে এখনও আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

প্রত্যক্ষদর্শী দাতব্য সংস্থার কর্মকর্তা সালভা ক্রজ বলেন, মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে মোতায়েন করা বাহিনী বুধবার শত শত অবৈধ অভিবাসীকে সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধা দিয়েছে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। সীমান্ত শহর মেটাপা থেকে ক্রজ বলেন, হ্যাঁ, এখানে এত বেশি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের ঘটনা নতুন। দারিদ্র্য এবং যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে উন্নত জীবনের আশায় মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস ও এল সালভাদর থেকে হাজার হাজার মানুষ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

দক্ষিণ সীমান্তে জড়ো হওয়া ওই অভিবাসীদের সংকট বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। অবৈধ অভিবাসীদের আটকাতে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে সেনা পাঠিয়েছেন এবং মধ্য আমেরিকার তিন দেশের জন্য বরাদ্দ বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু তার পরও প্রতিদিনই শত শত মানুষ মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে জড়ো হচ্ছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, মেক্সিকোর প্রচ্ছন্ন মদদে গণহারে অবৈধ অভিবাসীরা সীমান্তে জড়ো হতে পারছে। তাই মেক্সিকো সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে গত ৩১ মে তিনি দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের পণ্য প্রবেশে শুল্ক্কারোপের হুমকি দেন।

ওই দিন এক টুইটে তিনি বলেন, আগামী ১০ জুন থেকে ৫ শতাংশ শুল্ক্ক আরোপ করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে তা ৫ শতাংশ করে বাড়বে। সমস্যার সমাধান হলে শুল্ক্ক তুলে নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের হুমকির পরপরই সংকট সমাধানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। হোয়াইট হাউসে চলা ওই আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হলে আগামী সোমবার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা মেক্সিকোর গাড়ি, বিয়ার, টাকিলা, ফল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক্ক আরোপিত হবে। এ হারে চলতে থাকলে পাঁচ মাস পর মেক্সিকো থেকে আমদানি করা ওই পণ্যগুলোতে শুল্ক্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।