ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা ইরানের

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চার বছর আগে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিতে তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে যে সর্বোচ্চ মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা আবার অতিক্রমের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সকালে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সমৃদ্ধকরণের মাত্রা তিন দশমিক ৬৭ শতাংশের বেশিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এদিকে, ইরানের সমৃদ্ধকরণ মধ্যম পর্যায়ের হলেও এটি পরমাণু বোমার পথে যাত্রা বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী ইভুল স্টাইনেজ। তবে পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় কী ধরনের শর্ত নিয়ে ফের আলাপ শুরু করা যায় সে বিষয়ে ফ্রান্স ও ইরান একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন। আর যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে না হাঁটতে আহ্বান জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পেতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির এ মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আব্বাস আরাকচি। এর আগে শনিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। পরমাণু অস্ত্র বানাতে সমৃদ্ধকরণের এ মাত্রা ৯০ শতাংশ বা তার বেশি হতে হয়। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের পরমাণু চুক্তিতে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে রাখার শর্ত ছিল। রোববারের সংবাদ সম্মেলনে আরাকচি সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে কত শতাংশে উন্নীত করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো চুক্তি লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। তিনি জানান, তার দেশ এখনও ২০১৫ সালে হওয়া জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তিটি রক্ষা করতে চায়।

গত বছর ওয়াশিংটন সরে যাওয়ার পর চুক্তিটি বাঁচাতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরাই যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। নিজেদের প্রত্যাহার কওে নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার বর্ষপূর্তিতে তেহরান ওই নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়ানোর উপায় বের করতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৬০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিল। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গতকাল ইরানের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর এ ঘোষণা এলো। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটি চলতি বছরের মে মাসে পরমাণু চুক্তির শর্ত ভেঙে বেঁধে দেওয়া পরিমাণের চেয়ে বেশি ইউরেনিয়াম মজুদেরও ঘোষণা দিয়েছিল। দেশটি শুরু থেকেই তার পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ অ্যাখ্যা দিয়ে আসছে। বোমা বানাতে নয়, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজে পরমাণুর ব্যবহারই তেহরানের লক্ষ্য বলছে তারা।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে আরাকচি বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলো চুক্তি টেকাতে কার্যকর কোনো পন্থা বের করতে না পারলে প্রতি ৬০ দিন পরপর তেহরান ২০১৫ সালের চুক্তিতে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো থেকে একে একে বেরিয়ে আসবে।