ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের গোপন বার্তা ফাঁস

ট্রাম্প অদক্ষ প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি ভেঙে পড়তে পারে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনকে 'অদক্ষ', 'অকার্যকর' এবং 'বিভক্ত' বলে উল্লেখ করেছেন। লন্ডনে বিভিন্ন সময় পাঠানো ই-মেইল বার্তায় কিম ড্যারোচ এসব মন্তব্য করেছেন। এমন বিস্ম্ফোরক মন্তব্যে ভরা এসব ই-মেইল বার্তা ফাঁস হওয়ার পর গতকাল রোববার তা অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি মেইল। রাষ্ট্রদূত ড্যারোচের লন্ডনে পাঠানো যেসব ই-মেইল ফাঁস হয়েছে, সেগুলোকে অসত্য বলে দাবি করেনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএফপির।

রাষ্ট্রদূত ড্যারোচ লন্ডনে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় বারবার ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি যে কোনো সময় 'ভেঙে' পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবন 'অমর্যাদাপূর্ণভাবে শেষ হতে পারে'। এসব গোপন ই-মেইল বার্তা যাচাই-বাছাই করে দেখেছে মেইল অনলাইন। লন্ডনে পাঠানো একটি গোপন ই-মেইল বার্তায় রাষ্ট্রদূত ড্যারোচ লিখেছেন, 'আমরা মনে করি না, ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিকভাবে কোনো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।' তবে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্যটি তিনি করেছেন ট্রাম্পকে 'অনিরাপদ' এবং 'অপদার্থ' হিসেবে উল্লেখ করে।

এসব ই-মেইল বার্তা প্রকাশিত হওয়ায় নিশ্চিতভাবেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে যুক্তরাজ্য। আর রানী এলিজাবেথের আমন্ত্রণে লন্ডন সফর করে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এসব ই-মেইল বার্তা প্রকাশিত হলো। বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে ট্রাম্প ও তার পরিবারকে বেশ জাঁকজমকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন রানী। ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্পের সফরটি কূটনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে লন্ডন। যদিও ট্রাম্পের ওই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের জনগণ স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লন্ডনের রাজপথে বিক্ষোভও করেছেন অনেক মানুষ।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত লন্ডন সফরের পরপরই রাষ্ট্রদূত ড্যারোচ লন্ডনে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠান। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, দেখে মনে হবে ওই সফরে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বেশ বিমোহিত হয়েছে। এর পরপরই তিনি লন্ডনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিষয়টি তাদের পক্ষে গেছে এমন মনে করার কারণ নেই। কারণ, ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে 'আমেরিকা প্রথম' নীতিতে বিশ্বাস করেন।

রাষ্ট্রদূত ড্যারোচ তার লন্ডনে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় বারবার হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিজেদের মধ্যকার 'প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বিশৃঙ্খলতার' বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প যেসব সংবাদকে 'ভুয়া খবর' বলে উড়িয়ে দেন, তার বেশিরভাগই যে সত্য- সে কথাও লিখেলেন ড্যারোচ। তিনি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের একজন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে লন্ডনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। দ্য মেইল রোববার জানিয়েছে, তারা যে ই-মেইল বার্তাগুলো প্রকাশ করেছে, সেগুলো ব্রিটিশ প্রশাসনেরই কেউ ফাঁস করেছেন। ২০১৭ সালের শুরু থেকে ওই সব ই-মেইল ড্যারোচ লন্ডনে পাঠাতে শুরু করেন।

গত ২২ জুন লন্ডনে পাঠানো এক ই-মেইলে ড্যারোচ ট্রাম্পের ইরান-নীতিকে 'অসংলগ্ন' এবং 'বিশৃঙ্খলপূর্ণ' বলে উল্লেখ করেছেন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করলে দেশটির কিছু স্থাপনায় বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও শেষ মুহূর্তে তিনি সে হামলা থেকে সরে আসেন। তিনি তখন যুক্তি দিয়েছিলেন, হামলায় ১৫০ জন সাধারণ ইরানি নাগরিক মারা পড়তে পারেন বলে জানার পর ওই হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ড্যারোচ ই-মেইলে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের ওই যুক্তি আসলে 'ধোপে টেকে না'। সম্ভবত ট্রাম্প তখন প্রস্তুত ছিলেন না। এ ছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি নতুন করে যুদ্ধে না জড়াতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাও বোধ হয় তিনি মাথায় রেখেছিলেন। কারণ, আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লড়বেন ট্রাম্প।