এবার গোয়ায় কংগ্রেসের ১০ বিধায়ক বিজেপিতে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

কর্ণাটকের ধাক্কা লেগেছে পাশের রাজ্য গোয়ায়ও। বুধবার কংগ্রেসের ১৫ বিধায়কের ১০ জন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে ৪০ আসনের বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা এখন ২৭। উন্নয়ন না হওয়ার দোহাই দিয়ে এরা কংগ্রেস ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

দলত্যাগী বিধায়কদের পক্ষে বাবু কাভালেকর বলেছেন, 'কোনো উন্নয়ন না হলে মানুষ পরেরবার কেন সঙ্গে থাকবে? কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে না। সরকার গড়ার অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব কখনই তা হতে দেবে না। তাই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।'

দলত্যাগী বিধায়করা হলেন বাবু কাভালেকর, বাবুশ মনসেরাট্টে ও তার স্ত্রী জেনিফার, টনি ফারনান্ডেজ, ফ্রান্সিস সিলভেইরা, ফিলিপি নেরি রড্রিক, ক্লাফাসিও, উইলফ্রেড দে সা, নীলকান্ত হালানকার এবং ইসিডোর ফার্নান্ডেজ। যার ফলে ৪০ আসনের বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭। আর কংগ্রেসের ৫।

ওদিকে কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার এই মুহূর্তে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। কংগ্রেসের ১৩ জন, জেডিএসের তিনজন ও দু'জন নির্দল বিধায়ক কুমারস্বামীকে ছেড়ে দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রও তারা স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন। যদিও তা আইন মেনে হয়নি বলে তাদের পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ করেননি কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার রমেশ কুমার।

তবে এই টানাপড়েনেও পদত্যাগ করতে রাজি নন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবারই সাংবাদিকদের বলেছেন, 'আমি কেন পদত্যাগ করব? আমার ইস্তফা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তো তৈরি হয়নি।'

ওদিকে স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি পদত্যাগী বিধায়কদের পদত্যাগপত্র গ্রহণে গড়িমসি করছেন।

বিদ্রোহী বিধায়কদের অভিযোগ, এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার টিকিয়ে রাখছেন স্পিকার। বিদ্রোহীদের মধ্যে ১০ জন বিধায়ক দ্বারস্থ হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের।

শীর্ষ আদালত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই ইস্তফা দেওয়া বিধায়কদের দেখা করতে বলেছেন স্পিকারের সঙ্গে। স্পিকার আরও কিছুটা সময় দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন শীর্ষ আদালতের কাছে।

২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভায় কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কের সংখ্যা ১১৬। তাদের মধ্যে যদি ১৬ জনের ইস্তফা গৃহীত হয়, তা হলে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে কুমারস্বামীর জোট সরকার। সে উদ্বেগেই এ দিন রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী। স্পিকার রমেশ কুমার ইস্তফা দেওয়া বিধায়কদের ১৭ জুলাই তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন।

কর্ণাটক ও গোয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কর্ণাটকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসেছে কংগ্রেস। কর্ণাটকের বিধায়কদের বিজেপিতে যোগদান

করানোর অভিযোগ এনে দিল্লিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী।

বিজেপি যখন তার ইস্তফার দাবি তুলছে, তখন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনতা দল ইউনাইটেড সূত্রে খবর, কুমারস্বামীকে ফোন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী কুমারস্বামীকে জানিয়েছেন,

'আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। সংসদের ভেতরে ও বাইরে আপনার জন্য লড়াই করব।'