কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট নারী সদস্যদের কটাক্ষ ট্রাম্পের

বর্ণবাদের অভিযোগ এনে বিশ্বজুড়ে নিন্দা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট নারী সদস্যদের কটাক্ষ ট্রাম্পের

ছবিতে সামনের সারিতে বাঁ থেকে ট্রাম্পের বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, মিশিগানের রাশিদা তালিব ও ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি- এএফপি

এবার বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় চার নারী সাংসদকে আক্রমণ করে কয়েকটি টুইটে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে নাক না গলিয়ে তারা যেখান থেকে এসেছেন, তাদের সেখানেই ফিরে যাওয়া উচিত। ট্রাম্পের এমন টুইটের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির সংসদ সদস্যরা। এমনকি তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্যও তার সঙ্গে একমত না হয়ে তাকে বর্ণবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিৎজার বিজয়ী লেখক ডগলাস ব্ল্যাকমনও তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমসের।

কোন চার নারী সংসদ সদস্য তা ট্রাম্প স্পষ্ট করে উচ্চারণ না করলেও এটা বোঝা যায় যে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের আক্রমণের লক্ষ্য হলেন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রতিনিধি নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্র্রিয়া কোর্তেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি ও মিশিগানের রাশিদা তালিব।

ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের এ দলটি 'দ্য স্কোয়াড' নামে পরিচিত। তারা ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান ডেমোক্র্যাটদলীয় নেতাদেরও সমালোচনা করে থাকেন।

ট্রাম্প তার টুইটে বলেন, তার ধারণা, কংগ্রেসের স্পিকার ডেমোক্র্যাটদলীয় ন্যান্সি পেলোসি তাদের দ্রুত 'বিনামূল্যে ভ্রমণে'র ব্যবস্থা করে দিতে খুশিমনে কাজ করবেন। কারণ এক সপ্তাহ আগে স্পিকার পেলোসির সঙ্গে এই স্কোয়াডের বিরোধ হয়।

ট্রাম্প বলেন, ওই নারীরা প্রকৃতপক্ষে এমন দেশ থেকে এসেছে, যাদের সরকারগুলো সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি ব্যর্থ। তাই তাদের উচিত নিজ নিজ দেশে গিয়ে কীভাবে দেশ চালাতে হবে সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া।

স্কোয়াডের চার কংগ্রেস ওম্যানের মধ্যে তিনজনের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে ও তারা সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। চতুর্থজন ইলহান ওমর শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যান ও সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তাদের মধ্যে ওকাসিও-কোর্তেজের জন্ম নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায়।

ট্রাম্প তার তিনটি টুইটে এই কংগ্রেস ওম্যানরা তাকে ও যুক্তরাষ্ট্রকে 'হিংসাত্মক সুরে' সমালোচনা করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

ট্রাম্প বলেন, এটা খুবই মজার বিষয়। প্রগতিশীলতার দাবিদার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস ওম্যান, যারা প্রকৃতপক্ষে এমন দেশগুলো থেকে এসেছেন, যাদের সরকারগুলো বিশ্বের যে কোনো জায়গায় পুরোপুরি ব্যর্থ, নিকৃষ্টতম, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ। এখন উচ্চ ও হিংসাত্মক সুরে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিকে বলছে, কীভাবে তাদের সরকার চালাতে হবে। ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, নিজেদের পুরোপুরি ভেঙেপড়া ও অপরাধে জর্জরিত এলাকাগুলোকে ঠিক না করে কেন তারা এখানে পড়ে রয়েছেন?

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পেলোসি ট্রাম্পের এ টুইটগুলোকে 'বিদ্বেষমূলক' অভিহিত করে এর সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্পের মন্তব্যকে 'বর্ণবাদী' অভিহিত করে এর সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্পের টুইটের জবাবে মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব প্রেসিডেন্টের অপসারণ দাবি করেছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, 'একজন নীতিহীন ও সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? তার বিপজ্জনক আদর্শই সংকট।'

কোর্তেজ এক টুইট বার্তায় লেখেন, 'আপনি ক্ষুব্ধ, কারণ আমরা যে যুক্তরাষ্ট্রকে ধারণ করি আপনি তা ধারণ করতে পারেন না। লুটতরাজ চালানোর জন্য আপনি শঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র চান।'

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে'র একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। ওদিকে পুলিৎজার বিজয়ী লেখক ডগলাস ব্ল্যাকমনের মতে, ট্রাম্প এর দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবিদ্বেষকে উস্কে দিয়েছেন।