ট্রাম্পকে অভিশংসনে 'না'

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে গেছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আল গ্রিন নিজ দলের চারজন কংগ্রেসওম্যানের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক উক্তি করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে ওই প্রস্তাব এনেছিলেন। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তার উদ্যোগ বিফল হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে এমনকি তার নিজ দলের সদস্যরাও এতে সম্মতি দেননি। খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএনের।

বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটে ইমপিচমেন্ট আনার প্রস্তাবটি ৩৩২-৯৫ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৩৫টি, যা কোনো প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদের আলোচনার টেবিলে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। ওই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি করতে হলে কম পক্ষে ৪০ ভাগ ভোটের প্রয়োজন ছিল। রিপাবলিকানদের সঙ্গে ১৩৭ জন ডেমোক্র্যাট সদস্যও এর বিপক্ষে অবস্থান নেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও নাকচ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সাংবাদিকদের বলেন, এটা ইমপিচমেন্ট আনার মতো বড় কোনো বিষয় নয়। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ আসার জন্য। প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন কি-না, তা দেখার জন্য আমাদের ছয়টি কমিটি রয়েছে। তবে ৩৩২ ভোটের বিরুদ্ধে মাত্র ৯৫টি ভোট পড়লেও ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের ব্যাপারে ডেমোক্র্যাটদের আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে। আল গ্রিন এর আগেও দু'বার, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় রিপাবলিকানপ্রধান পরিষদে তার ইমপিচমেন্ট বিষয়ক প্রস্তাব যথাক্রমে ৩৬৪-৫৮ এবং ৩৫৫-৬৬ ভোটে নাকচ হয়ে গিয়েছিল। তবে তার সর্বশেষ ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আলোচনায় তোলার ব্যাপারে এবার আগ্রহী ডেমোক্র্যাটের সংখ্যা বেড়েছে আগের চেয়ে।

ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব হাউসে না তোলার জন্য গ্রিনকে আহ্বান জানানো হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। তবে আল গ্রিন তাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে প্রস্তাবটি পরিষদে উত্থাপন করেন।

ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের এ উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। একে হাস্যকর হিসেবে অভিহিত করে টুইটারে লিখেছেন, এমন উদ্যোগ অবশ্যই হাস্যকর। তবে এটা শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ ধরনের হাস্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

এর পরই আবার স্বরূপে ফিরেছেন তিনি। নর্থ ক্যারোলাইনার এক সমাবেশে ওই চার নারী সদস্যের বিরুদ্ধে ফের আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ওই চার নারী যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন। এ সময় বহুলোক 'তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার' দাবি তুলে স্লোগান দেন।