ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি ইসরায়েলের

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ইরানকে পরমাণু চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে এ পরমাণু চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, যতটা প্রয়োজন ততটাই ইউরেনিয়াম মজুদ করবে তার দেশ। এ ছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ইরান কখনোই চুক্তি লঙ্ঘন করছে না। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধে সম্পৃক্ত হতে সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েল। খবর রয়টার্সের।

ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করছে এমন খবরে তারা 'অত্যন্ত উদ্বিগ' বলে মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে চুক্তিভুক্ত দেশগুলো। ইরান চলতি সপ্তাহে ঘোষণা করেছে, পারমাণবিক চুক্তিতে কমসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের যে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, মজুদ তার চেয়েও বাড়াবে তারা। দেশটির এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় 'ইরান আগুন নিয়ে খেলছে' বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০১৫ সালের ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির সঙ্গে পরমাণু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু গত বছর ইউরোপীয় মিত্রদের বাধা সত্ত্বেও ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তিতে অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে। ইরানকে নতুন চুক্তিতে বাধ্য করাতে চান তিনি। কিন্তু তেহরান তাতে রাজি হয়নি। দু'দেশের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় সোমবার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা বাড়ানোর কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান ৩০০ কেজি পর্যন্ত কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করতে পারত। তবে ওই সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, অপর পক্ষ এ সমঝোতা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তেহরান এর কোনো কোনো ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারবে। সে অনুযায়ী ইরান এ পদক্ষেপ নেয়।