পশ্চিমবঙ্গের নাম 'বাংলা' হচ্ছে না

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম আপাতত 'বাংলা' রাখা হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব গত মঙ্গলবার নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের নাম 'বাংলা' রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, সংবিধান সংশোধন না করে এটি করা সম্ভব নয়। ভারতের কোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তন করার চূড়ান্ত প্রক্রিয়াটি দেখার দায়িত্ব দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ নিয়ে তিনবার পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল এই মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ২৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় নাম বদলে 'বাংলা' রাখার বিল পাস হয়। এর পর সেটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রস্তাব খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। তার পর আর এ নিয়ে প্রায় এক বছর কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান, এই প্রস্তাবে কেন্দ্র ছাড়পত্র দিয়েছে কি-না। জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রস্তাবে এখনও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তাছাড়া কোনো রাজ্যের নাম বদলাতে হলে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হয়। রাজ্যসভায় বিল পেশ করতে হয়, যা করা হয়নি। নাম বদলের এই প্রস্তাবে কেন্দ্রের আপত্তি আছে।

নাম না বদলানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, রাজ্যের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। সেখানেও নামে 'বাংলা' রয়েছে। ফলে তা সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও কেন্দ্রের যুক্তি মানছে না রাজ্য। পাঞ্জাবের উদাহরণ তুলে ধরে পাল্টা যুক্তি দিয়েছে রাজ্য সরকার। মমতা সরকারের যুক্তি, পাকিস্তানেও 'পাঞ্জাব' নামে একটি প্রদেশ রয়েছে। এদিকে ভারতেও 'পাঞ্জাব' নামে রাজ্য রয়েছে। তাতে যদি কোনো সমস্যা না হয়ে থাকে, তবে বাংলা নিয়ে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অযৌক্তিক। কারণ প্রতিবেশী দেশের সম্পূর্ণ নাম বাংলাদেশ।