মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধের নতুন অভিযোগ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় অস্থিতিশীল প্রদেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নতুন যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে। এ অভিযোগ করেছেন মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ইয়াংহি লি। মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ জানান তিনি। খবর রয়টার্সের।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক সাঁড়াশি অভিযানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি থেকে সাত লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত টপকে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। 'গণহত্যার উদ্দেশ্যে' মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ওই অভিযানে ব্যাপক খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে বলে পরে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন।

মিয়ানমার সরকার এসব বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। বিধ্বস্ত রাখাইন ও কাচিন প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে এখনও জাতিগত বিদ্রোহীদের লড়াই অব্যাহত আছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি প্রদেশ দুটির বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করছে।

এরই মধ্যে মিয়ানমারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত ২২ জুন রাখাইন ও কাচিন প্রদেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয়। শান্তি বিঘ্ন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার রুখতে মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশ দেয় বলে জানিয়েছে টেলিনর গ্রুপ।

রাখাইন ও কাচিনে মোবাইল ফোন 'ব্ল্যাক আউটে'র মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সম্ভবত বড় ধরনের কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে গত সপ্তাহে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন লি।

মঙ্গলবার তিনি ওই আশঙ্কার বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে হাজির করেন। রাখাইন প্রদেশের উত্তরে ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কাচিন প্রদেশের একাংশে আরাকান আর্মির সঙ্গে (সেনাবাহিনী) যে সংঘর্ষ কয়েক মাস ধরে চলছে, তা বেসামরিকদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। তাতমাদা (মিয়ানমার সেনাবাহিনী) ও আরাকান আর্মির অনেক কাজই মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি সম্ভবত এগুলো যুদ্ধাপরাধের মাত্রাও ছুঁয়েছে।

পালেতোয়ার ১২ নির্মাণশ্রমিক এবং বাংলাদেশ সীমান্তের কাছ থেকে ৫২ গ্রামবাসীসহ অনেক বেসামরিক লোককে আরাকান আর্মি অপহরণ করেছে বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে জানান লি।

অন্যদিকে, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাসাজশ আছে এমন সন্দেহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও রাখাইনের অসংখ্য বাসিন্দাকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আটক অনেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছে বলেও দাবি করছেন তিনি।