উরজুলা ইইউ কমিশনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আঞ্চলিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইতিহাসে জোটের কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই প্রথম কোনো নারী দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। তিনি হলেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের আস্থাভাজন উরজুলা ফন দেয়ার লায়েন। গত মঙ্গলবার রাতে এ পদে উরজুলার নাম প্রস্তাব করা হলে ইইউর সদস্য দেশগুলো তাতে সম্মতি দেয়। এর মধ্য দিয়ে জোটের শীর্ষ পদে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে জটিলতার খানিকটা অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টিনা ল্যাগার্দে। এটিও ইইউর ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। আর বুধবার ইইউ পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার) মনোনীত হয়েছেন ইতালির সাবেক সাংবাদিক ডেভিড-মারিয়া সাসোলি। তবে এসব শীর্ষ পদে বসতে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে। সাধারণত সমঝোতার মাধ্যমে মনোনীত ব্যক্তিরা পার্লামেন্টেও অনুমোদন পেয়ে থাকেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

ইইউ কমিশনের প্রধান হিসেবে প্রথমে নাম এসেছিল নেদারল্যান্ডসের লেবার নেতা ফ্রান্স টিমেরম্যানের। তাকে সমর্থনও দিয়েছিলেন মেরকেল। তবে বেশিরভাগ দেশের আপত্তির মুখে তার নাম খারিজ হয়ে যাওয়ার পর অনেকটা আকস্মিকভাবেই এ পদে উঠে আসে উরজুলার নাম। ৬০ বছর বয়সী এ নারীই ইইউ কমিশনের বর্তমান প্রধান জঁ ক্লদ জাঙ্কারের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।

ইইউর শীর্ষ পদগুলোতে কারা বসবেন, তা অভ্যন্তরীণ সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করে নেন সদস্য দেশগুলোর নেতারা। আগামী পাঁচ বছরের জন্য শীর্ষ পাঁচ পদে কারা বসছেন, তা নির্ধারণে কয়েকদিন ধরেই টানা আলাপ-আলোচনা চলছে। তাদের আলোচনাতেই উরজুলার নাম চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিস্টিনা ল্যাগার্দেকে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) প্রথম নারী প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বেলজিয়ামের উদারপন্থি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছেন। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এ ছাড়া স্পেনের জোসেফ বোরেলের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধানের পদে। বুধবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন, তা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। এ পদে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানির মধ্য-ডানপন্থি নেতা ম্যানফ্রেড ওয়েবের ও বুলগেরিয়ার সোশ্যালিস্ট নেতা সের্গেই স্টানিশেভ।